দ্বৈত নাগরিকদের মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবি নাগরিক কোয়ালিশনের

নাগরিক কোয়ালিশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে নাগরিক কোয়ালিশন। নতুন করে সেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ উঠেছে, তদন্তে প্রমাণিত হলে তাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিলেরও দাবি জানিয়েছে নাগরিক প্ল্যাটফর্মটি।

আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নাগরিক কোয়ালিশন এ দাবি জানিয়েছে। এতে বলা হয়, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী আইনের যথাযথ, নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নাগরিক সমাজ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী আইনের আওতায় প্রার্থিতা অনুমোদনের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

নাগরিক কোয়ালিশন বলেছে, ২২ জানুয়ারি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সবার সামনে প্রকাশ করে। ওই তথ্য অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে জমা করা হলফনামায় তাঁদের বিদেশি নাগরিকত্ব ও বিদেশে থাকা সম্পদের ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে তথ্য গোপন করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটি নির্বাচনী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এই অপরাধে তাঁদের প্রার্থিতা আইনগতভাবে বাতিলযোগ্যও। দুর্ভাগ্যজনকভাবে যাঁদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ, তাঁদের প্রার্থিতা নির্বাচন কমিশন বৈধ ঘোষণা করেছে এবং তাঁরা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন।’

নাগরিক কোয়ালিশন মনে করে, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশে নতুন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, গুটিকয় প্রার্থীর ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের ভুল (হয়তো অনিচ্ছাকৃত) সিদ্ধান্তের জন্য তা কলঙ্কিত করা ঠিক হবে না। সেটি করা হলে তা নিশ্চয়ই জুলাই আন্দোলনে জীবন দেওয়া শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননা হবে।

নাগরিক কোয়ালিশন দাবি করেছে, যেসব প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে নতুন করে অভিযোগ এসেছে, সেসব প্রার্থীদের আসনে নির্বাচন স্থগিত করে অভিযোগ তদন্ত করা হোক। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে দ্রুততম সময়ে সেসব আসনে নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। আর যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হোক।