ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুলিশকে নজরদারি রাখার নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের

ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে মার্চ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভাছবি: ডিএমপির সৌজন্যে

জ্বালানি তেল নিয়ে ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশকে নজরদারি করতে নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনার শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণিতে অবস্থিত ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে মার্চ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার এ নির্দেশ দেন।

আজ সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে এই সভা চলে বেলা তিনটা পর্যন্ত। এতে ডিএমপির সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থেকে শুরু করে অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার, ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার থেকে তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা এবং ডিএমপি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, ইতিপূর্বে রাজধানীর ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেই জায়গায় হকাররা পণ্য নিয়ে আবারও বসলে তাঁদের উচ্ছেদ করতে হবে। তিনি প্রতিটি অপরাধ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার, অতিরিক্ত উপকমিশনার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মাঠে উপস্থিত থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের তদারক করার নির্দেশ দেন।

ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার রাজধানীতে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার ও ডিএমপির থানাগুলোতে মুলতবি মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, জনবান্ধব পুলিশিং গড়ে তুলতে কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করতে হবে। মানুষ যেন তাদের কাঙ্ক্ষিত আইনি সেবা থানা থেকে পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা মহানগরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তিনি পুলিশকে হেঁটে (ফুট পেট্রল) টহল জোরদার করতে বলেন। থানা এলাকায় মাদক উদ্ধার ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চালাতে হবে। কোনো অপরাধ যেন থানা এলাকায় সংঘটিত হতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন মো. সরওয়ার।

মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা, আমাদের ওপর অনেক। আমরা যেন তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি, সে জন্য আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে শূন্য সহিষ্ণু (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণ করা হবে।’

মাসিক অপরাধ সভায় মার্চ মাসে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানসহ উত্তম কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার।

মার্চ মাসে ডিএমপির অপরাধ বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে মিরপুর বিভাগ। শ্রেষ্ঠ থানা হয়েছে হাজারীবাগ থানা। সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন। শ্রেষ্ঠ উপপরিদর্শক (এসআই) যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন খিলগাঁও থানার এসআই আবু সায়েম ও ভাটারা থানার এসআই মো. হাফিজুর রহমান। এএসআইদের মধ্যে যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই মো. আখতারুজ্জামান মন্ডল পলাশ ও মোহাম্মদপুর থানার এএসআই মো. রকিবুল হাসান। গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ডিবি-লালবাগ বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন ডিবি-ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম। ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ট্রাফিক-গুলশান বিভাগ। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্ট যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মহাখালী ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট আঞ্জুম আল-হাসিব ও মোহাম্মদপুর ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট রাসেল আলম।