একরামুল হত্যায় বদি ও সাবেক-বর্তমান তিন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো
কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক একজন সংসদ সদস্য ও সাবেক-বর্তমান তিন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। গ্রেপ্তার দেখানো চারজন হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম ও সাবেক কর্নেল মো. আনোয়ার লতিফ খান।
বদি কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি)। মাহবুব আলম র্যাবের সাবেক পরিচালক। মিফতাহ উদ্দিন র্যাবের সাবেক কমান্ডার। আনোয়ার লতিফ র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক।
মাহবুব আলম ও আনোয়ার লতিফ খান মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলায় ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে আছেন। মিফতাহ উদ্দিন সেনা হেফাজতে আছেন। বদি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
এই চারজনকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের (রাষ্ট্রপক্ষ) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ৭ সেপ্টেম্বর।
একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা এই মামলায় মোট আসামি ১১ জন। অপর সাত আসামি হলেন—ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) রুহুল আমিন (রাজন), র্যাবের সাবেক কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আশেকুর রহমান ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক সদস্য স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
এই সাত আসামির বিষয়ে প্রতিবেদন এসেছে যে তাঁদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাই তাঁদের আত্মসমর্পণ করার জন্য দুটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে র্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন একরামুল। তিনি ১২ বছর টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।