জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন-২০২৫–এ নির্বাচন কমিশনের ভোট গণনার অপটিক্যাল মার্ক রেকগনিশন (ওএমআর) মেশিনে ত্রুটি পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে শঙ্কা জানিয়েছে ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’।
আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাশহীদ রফিক ভবনের নিচে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের প্রার্থীরা নির্বাচনের জন্য আনা ওএমআর মেশিনের বিভিন্ন ত্রুটির কথা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী এ কে এম রাকিব বলেন, ‘বিগত ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে ওএমআর মেশিনে ভোট গণনা নিয়ে আমরা নানা অভিযোগ পেয়েছি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ ওঠায় আমরা এর বিকল্প চেয়েছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কর্ণপাত করেনি।’
এ কে এম রাকিব বলেন, গতকাল রোববারও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্যানেল প্রতিনিধি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের একটা বৈঠক হয়েছে। সেখানে মেশিনের বিভিন্ন অসংগতি ধরা পড়ে। প্রতিনিধিরা এটা নিয়ে স্পষ্টভাবে কথা বললেও তারা সেটি এড়িয়ে যায়।
প্যানেলটির সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদপ্রার্থী বি এম আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা মেশিনে কিছু অসংগতি লক্ষ করি। সব প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও সেটি লক্ষ করেছে। দুটো মেশিনে ডেমো দেখানো হয়েছে। একটি মেশিন এক রকম ব্যালেট দেখায় তো আরেকটা মেশিন আরেক রকম ব্যালেট দেখাচ্ছে। একটাতে একভাবে গণনা হয়, আরেকটাতে আরেকভাবে গণনা হয়।’
আতিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা জানি, ওএমআর মেশিনে ক্রস চিহ্নের মাধ্যমে ভোট গণনা হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে ছোট একটা ফোঁটা পড়লেও মেশিন সেটি গণনা করছে। একটা মেশিনে বিভিন্ন রকম দেখাচ্ছে। আমরা যখন নির্বাচন কমিশনকে এ অসংগতির কথা জানালাম, তখন তারা আমাদের বলে, মেশিনে যেহেতু সমস্যা, তাহলে আমরা মেশিন ও ম্যানুয়ালি—দুইভাবেই ভোট গণনা করব।’
বিষয়টি নিয়ে জকসুর নির্বাচন কমিশনার আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কালকের জকসু নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি খুবই ভালো। আমরা আজকে নতুন করে আরও দুটি মেশিন নিয়ে এসেছি। পরীক্ষামূলকভাবে চেক করে দেখেছি, বর্তমান মেশিনগুলোতে অসংগতির পরিমাণ শূন্য শতাংশ। কালকে ওএমআর মেশিনে ভোট গণনা হবে।’
গতকাল রাতে জকসু নির্বাচনের প্যানেলগুলোর ভিপি-জিএস-এজিএস প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন বৈঠক করে। বৈঠকে পরীক্ষামূলকভাবে ওএমআর মেশিনে ভোট প্রদানের ডেমো দেখানোর সময় এসব ত্রুটি ধরা পড়ে।