ঢাবিতে হল প্রাধ্যক্ষের নামে এবার ‘শোক সংবাদ’

ঢাবির মাস্টারদা সূর্য সেন হলের প্রাধ্যক্ষ মোহাম্মদ মকবুল হোসেন ভূঁইয়ার নামে হলে ‘শোক সংবাদ’ সাঁটিয়েছে হলটির শিক্ষার্থীদের একটি অংশ
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে তৎপর নন—এমন অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হলের প্রাধ্যক্ষ মোহাম্মদ মকবুল হোসেন ভূঁইয়ার নামে হলের দেয়ালে ‘শোক সবাদ’ সাঁটানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশের এমন কাজে ‘মর্মাহত’ প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মকবুল হোসেন ভূঁইয়া। এর আগে একই অভিযোগ তুলে গত বছরের নভেম্বরে মকবুল হোসেন ভূঁইয়ার নামে ‘নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি’ সাঁটিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা।

গত সোমবার দিবাগত রাতে সূর্য সেন হলের দেয়ালে প্রাধ্যক্ষের নামে ‘শোক সংবাদ’ সাঁটানো দেখা যায়। প্রাধ্যক্ষের ছবি দিয়ে এতে লেখা হয়েছে, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হলের সম্মানিত প্রভোস্ট জনাব মকবুল হোসেন ভূঁইয়া ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না-লিল্লাহ...)। তাঁর অকালপ্রয়াণে মাস্টারদা সূর্য সেন হল পরিবার অত্যন্ত শোকাহত৷ মৃত্যুকালে তিনি ১ ছেলে, ১ মেয়ে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন৷ শোকান্তে: মাস্টারদা সূর্য সেন হল পরিবার।’

সূর্য সেন হলের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক মাস ধরে হলের ক্যানটিন বন্ধ। হলের ইন্টারনেট সেবা (ওয়াই-ফাই) নিম্নমানের। দোকানগুলোতে একধরনের নৈরাজ্য চলছে—জিনিসপত্রের দাম অন্য হলের চেয়ে বেশি। হলের মেসে গ্যাসের সংকট চলছে। পানির পর্যাপ্ত ফিল্টার নেই। হলের শৌচাগারগুলো খুবই অপরিচ্ছন্ন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বারবার এসব সমস্যার কথা জানানো হলেও তা সমাধানে প্রাধ্যক্ষের কোনো তৎপরতা নেই। এসবের জেরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নামে শোক সংবাদ সাঁটিয়েছেন।

মোহাম্মদ মকবুল হোসেন ভূঁইয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক। শোক সংবাদে সাঁটানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কে বা কারা শোক সংবাদ সাঁটিয়েছেন, কেনই–বা সাঁটিয়েছেন, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। হলে বিভিন্ন সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু তাই বলে মৃত্যুসংবাদ প্রচার করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাজ হতে পারে না। আমারও তো পরিবার-আত্মীয়স্বজন আছে৷’

আরও পড়ুন