সাত কলেজের তিনটি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি নয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত রাজধানীর সাত সরকারি কলেজছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের তিনটি শিক্ষাবর্ষের (২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪) শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মাইগ্রেশনের মাধ্যমে নবপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে চার শিক্ষার্থীর করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রুলসহ আদেশ দেন। ওই সিদ্ধান্ত রিট আবেদনকারী চার শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৭ সালে সাত কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত করা হয়েছিল। সরকারি কলেজগুলো হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ।

অধিভুক্তির পর থেকে নানা সংকট তৈরি হয়। গত বছরের জানুয়ারিতে সাত কলেজকে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এসব কলেজ একীভূত করে নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগ নেয় বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ জন্য গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অধ্যাদেশ অনুসারে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন করা হয়।

রিট আবেদনকারী পক্ষ জানায়, গত ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের নবপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য গত ২৭ আগস্ট ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ রোডম্যাপ জারি করে। এর ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের তিনটি শিক্ষাবর্ষে (২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪) ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের নবগঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামে স্থানান্তরের (একাডেমিক মাইগ্রেশন) বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্তসংবলিত রোডম্যাপের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চার কলেজের চার শিক্ষার্থী চলতি মাসে রিটটি করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী কাজী আখতার হোসাইন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তাসবির শরীফ ও জাহাঙ্গীর আলম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান।

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবীর ভাষ্য, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইনের ৫৯(৪) ধারা অনুযায়ী শুধু ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা (স্নাতক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে নির্ধারিত শিক্ষাকাঠামো ও কারিকুলামে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি হতে সনদ অনুমোদনের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সনদপ্রাপ্ত হবেন। অথচ আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তিনটি শিক্ষাবর্ষে (২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪) ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাডেমিক মাইগ্রেশনের মাধ্যমে নবপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইন হয়েছে ২০২৬ সালে। আইন সব সময় প্রেসপেক্টিভ অর্থাৎ আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে এর কার্যক্রম শুরু হবে। পেছনের অর্থাৎ আগের কিছু বিষয় রাখতে হলে, তা আইনেই বলে দিতে হয়। আইন বলেছে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে হবে, সে ক্ষেত্রে আগেরগুলো (আগের শিক্ষাবর্ষ) সন্নিবেশিত করতে পারে না। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা রোডম্যাপের ভিত্তিতে এমন স্থানান্তর কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরিচয়, শিক্ষার ধারাবাহিকতা ও অর্জিত অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে। মূলত এমন সব যুক্তিতে রিটটি করা হয়।

আদেশের বিষয়টি জানিয়ে আইনজীবী কাজী আখতার হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, সাত কলেজের তিনটি শিক্ষাবর্ষের (২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪) শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মাইগ্রেশনের মাধ্যম নবপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরের ওই সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। গত ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২৭ আগস্ট জারি করা রোডম্যাপ রিট আবেদনকারী চার শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

ওই সিদ্ধান্তসংবলিত রোডম্যাপের কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শুধু রিট আবেদনকারী চারজনের ক্ষেত্রে এটি স্থগিত থাকবে। সংশ্লিষ্ট অন্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এর কার্যক্রম চলমান থাকবে।