পাসপোর্ট নবায়নে প্রবাসীদের ঝুলে থাকা আবেদন ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

হাইকোর্ট ভবনফাইল ছবি

পাসপোর্ট নবায়নে প্রবাসীদের ঝুলে থাকা (পেন্ডিং) আবেদন আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দুই বিবাদীকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদেশ বাস্তবায়নের প্রতিবেদন ৯০ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেন।

রুলে প্রবাসীদের নতুন বা নবায়নের পাসপোর্ট আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সচিব, পররাষ্ট্রসচিব, প্রবাসী কল্যাণসচিব, আইনসচিব ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে, ‘প্রবাসীরা পাসপোর্ট নিয়ে মহাযন্ত্রণায়’ শিরোনামে গত ৯ জুলাই প্রকাশিত একটি দৈনিকের প্রতিবেদন যুক্ত করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে তিন আইনজীবী ওই রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ জীসান হায়দার।

হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে প্রবাসীদের পাসপোর্টের নবায়নের যেসব আবেদন পেন্ডিং আছে, তা ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

মনজিল মোরসেদ প্রথম আলোকে বলেন, দেশের বিভিন্ন হাইকমিশন ও দূতাবাস যেন প্রবাসীদের দাখিল করা নতুন পাসপোর্ট বা নবায়নের আবেদন দ্রুত পাসপোর্ট অফিসে পাঠায়, সে জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ২১ দিনের মধ্যে নির্দেশনাসংবলিত চিঠি ইস্যু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আরও বলেন, লাখ লাখ প্রবাসী বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। তাঁদের উপার্জিত অর্থ রেমিট্যান্স হিসেবে পাঠালে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়। তবে ওই প্রবাসীদের পাসপোর্ট প্রদান এবং নবায়নের আবেদন দিনের পর দিন পেন্ডিং থাকার কারণে তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এমনকি কখনো কখনো তাঁদের অনেককে চাকরি হারাতে হচ্ছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।