স্বাধীন সাংবাদিকতায় ১ ডলার বিনিয়োগে ১০০ ডলারের সুফল: ডয়চে ভেলের মহাপরিচালক
স্বাধীন সাংবাদিকতা মূলত নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একধরনের বিনিয়োগ। স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিনিয়োগ করা প্রতি মার্কিন ডলার সমাজের জন্য ১০০ ডলারের বেশি সুফল বয়ে আনতে পারে।
জার্মানির সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের আয়োজনে ‘ডিডব্লিউ গ্লোবাল মিডিয়া ফোরাম ২০২৬’ শীর্ষক দুই দিনের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার এসব কথা বলেন ডয়চে ভেলের মহাপরিচালক বারবারা মাসিং।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ এবং এর চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য জার্মানির বন শহরে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেন শতাধিক দেশের হাজারের বেশি সাংবাদিক, সম্পাদক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
ডয়চে ভেলের মহাপরিচালক বারবারা মাসিং বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা মূলত নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একধরনের বিনিয়োগ। আজ (মঙ্গলবার) সকালেই ডিডব্লিউ একাডেমি, ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর পাবলিক ইন্টারেস্ট মিডিয়া এবং ইউনেসকো একটি যৌথ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ‘দ্য ভ্যালু অব জার্নালিজম’ (সাংবাদিকতার মূল্য) নামের এই প্রতিবেদনে ঠিক এ বিষয়টিরই শক্ত প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষণার বরাত দিয়ে বারবারা মাসিং বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিনিয়োগ করা প্রতি মার্কিন ডলার সমাজের জন্য ১০০ ডলারের বেশি সুফল বয়ে আনতে পারে। তছরুপ হওয়া অর্থ উদ্ধার, উন্নত সরকারি সেবা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি কমানোর মাধ্যমেই এই সুফল পাওয়া যায়। এর বিপরীতে, অপতথ্যের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর সমাজকে ৩৫০ থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোনো বিলাসিতা নয় উল্লেখ করে ডয়চে ভেলের মহাপরিচালক বলেন, এগুলো গণতন্ত্র, নিরাপত্তা এবং একটি মুক্ত সমাজের জন্য অপরিহার্য। এই কারণেই ‘নির্ভীক, সোচ্চার সাংবাদিকতা’ অর্থ কোনো অবস্থাতেই আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে কোণঠাসা না হওয়া। সাংবাদিকতাকে অবশ্যই জনমত তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিজেকেই গড়ে নিতে হবে।
বারবারা মাসিং বলেন, গ্লোবাল মিডিয়া ফোরাম ঠিক এ কাজটি করার জন্য উপযুক্ত জায়গা। এখানে সাংবাদিকতা, রাজনীতি এবং সুশীল সমাজের মানুষ একসঙ্গে সমবেত হয়ে শুধু ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েই আলোচনা ও বিশ্লেষণ করেন না, বরং এর সমাধানও খোঁজেন। এর জন্যও সাহসের প্রয়োজন। কারণ, সাহস না থাকলে সাংবাদিকতা নীরব হয়ে যায়।