তাঁদের সঙ্গে আছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পানি সরবরাহ অনুবিভাগ) মো. খাইরুল ইসলাম। তাঁরা মূলত ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের জন্য যন্ত্রপাতি কিনতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সফরের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রি শিপমেন্ট ইন্সপেকশন’ বা যন্ত্রপাতি ক্রয়ের আগে শিল্পকারখানা পরিদর্শনে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। সেখানে পানির জীবাণুমুক্তকরণ সম্পর্কে নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কীভাবে জীবাণুমুক্তকরণ যন্ত্র কাজ করে, তা দেখানো হবে। এ সফরের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদনও নেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম বলেন, ‘এ সফরে সরকারের কিংবা ওয়াসার বাড়তি কোনো খরচ হবে না। আমরা যেসব যন্ত্রপাতি সেখানে কিনব, তা কেনার আগে দেখতে যাচ্ছি। সব খরচ বহন করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।’ তবে টাকার পরিমাণ জানাতে রাজি হননি তিনি। এই প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কোরিয়ার ‘তেইয়ং ই অ্যান্ড সি’।

চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নতুন নয়। প্রায় প্রতিটি প্রকল্পেই বিদেশ সফর করেন কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ২০১৯ সালে উগান্ডা সফর করে আলোচনায় এসেছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তারা।

সেবার ওয়াসার ২৭ জন কর্মকর্তা–কর্মচারী ‘প্রশিক্ষণের’ জন্য পূর্ব–মধ্য আফ্রিকার দরিদ্র দেশ উগান্ডায় ভ্রমণ করেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে গিয়েছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের আরও ১৪ জন কর্মকর্তা। এ সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ওয়াসা বোর্ডেরই কয়েকজন সদস্য। এটি সমালোচনাও তৈরি হয়।

সরকারের নির্দেশনা সত্ত্বেও বিদেশ সফর প্রসঙ্গে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, পানি জীবাণুমুক্ত করতে যে যন্ত্র কেনা হচ্ছে, তা দেখার জন্য সরকারের অনুমোদন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন তাঁরা।

ওয়াসা সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর বাঁ তীরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, সরকারি ও বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের অক্টোবরে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কাজটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন