১১ টাকার ‘শান্তি’ বিক্রি ৯ টাকায়, লোকসান বাড়ছে ঢাকা ওয়াসায়

ঢাকার মিরপুরে ঢাকা ওয়াসার প্ল্যান্টে উৎপাদন হয় শান্তি পানিছবি: মোহাম্মদ মোস্তফা

কারখানা আছে, পানি শোধনের যন্ত্র আছে, বোতল তৈরির ব্যবস্থাও আছে। প্রতি মাসে উৎপাদিত হচ্ছে কয়েক লাখ লিটার পানি। শুধু বাজারেই নেই ঢাকা ওয়াসার ‘শান্তি’।

রাজধানীর অধিকাংশ মুদিদোকান, হোটেল, চায়ের দোকান কিংবা সুপারশপে খুঁজে এই পানি পাওয়া যায় না; যদিও অন্য সব কোম্পানির বোতলজাত পানি ঠিকই থাকে।

ওয়াসার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আধা লিটারের একটি বোতলসহ পানি উৎপাদনে তাঁদের খরচ হচ্ছে প্রায় ১১ টাকা। সেই বোতল ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে ৯ টাকায়। অর্থাৎ কারখানা থেকে বের হওয়ার আগেই বোতলপ্রতি দুই টাকা লোকসান হচ্ছে সরকারি সংস্থাটির।

ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা এই কারখানা চালুর দুই দশক হতে চলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাবে, এ সময়ে লোকসান হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাদ দিয়েই বছরে লোকসান হচ্ছে দুই থেকে তিন কোটি টাকা। মাসভেদে পানি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ২৫ লাখ টাকার।

অন্যদিকে বেসরকারি কোম্পানির আধা লিটারের পানির বোতল বিক্রি করে একজন খুচরা ব্যবসায়ী নয় টাকা পর্যন্ত লাভ করতে পারেন। শান্তির একই আকারের বোতল বিক্রি করে তাঁর লাভ হয় চার টাকা। ফলে দোকানের তাকে জায়গা পাচ্ছে বেসরকারি কোম্পানির পানি। সরকারি ‘শান্তি’ শুধু থেকে যাচ্ছে কারখানা ও ওয়াসার কয়েকটি বিক্রয়কেন্দ্রে।

আধা লিটারের শান্তি পানির বোতল তৈরিতে ঢাকা ওয়াসার খরচ হচ্ছে ১১ টাকা। তা বিক্রি করা হচ্ছে ৯টায়। ফলে লোকসান হচ্ছে ২ টাকা। আবার খুচরা বিক্রেতারা তা বিক্রি করছেন ১৫ টাকায়, তাতে লাভ হচ্ছে ৪ টাকা। একই পরিমাণ বেসরকারি কোম্পানির পানির বোতল বিক্রি করে এর দ্বিগুণ লাভ হচ্ছে বিক্রেতার।

উদ্দেশ্য সফল হয়নি, লাভও আসেনি

ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বোতলজাত পানির দাম ইচ্ছেমতো বাড়াতে না পারে এবং মানুষ যেন কম দামে নিরাপদ পানি পায়—এই লক্ষ্য নিয়ে শান্তি পানি উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি। তাই এই প্ল্যান্ট লাভজনক করা হয়নি। উল্টো প্রতিনিয়ত গুনতে হচ্ছে লোকসান।

মিরপুর–১০ নম্বরে স্থাপিত কারখানাটি উদ্বোধন হয়েছিল ২০০৬ সালের ৩০ জুলাই। ওই বছরের সেপ্টেম্বর শান্তি পানি বাজারে আসে। প্ল্যান্টটি প্রতি ঘণ্টায় ১০ হাজার লিটার পানি শোধন এবং ৬ হাজার লিটার বোতলজাত করতে পারে।

তবে যে পণ্য বাজারে সহজে পাওয়া যায় না, সেটি বেসরকারি কোম্পানিগুলোর দামের ওপর প্রভাব ফেলবে কীভাবে—এই প্রশ্নের জবাব মেলেনি ওয়াসার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। কম দামে সাধারণ মানুষের কাছে পানি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যও পূরণ হয়নি। উল্টো বছরের পর বছর উৎপাদন, পরিবহন, জনবল ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বহন করছে ঢাকা ওয়াসা।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শান্তি পানির বোতল তৈরিতে অন্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এক টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। তবে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো গেলে বোতলপ্রতি খরচ কিছুটা কমবে। এ জন্য আগামী ছয় মাসের মধ্যে উৎপাদন দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরের ছয় মাসে তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

শান্তি পানিকে লাভজনক করতে একটি কারিগরি কমিটি ও একটি বিপণন কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে প্ল্যান্টটি লাভজনক করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে ওয়াসা।

শান্তি পানির বোতল তৈরিতে অন্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এক টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। তবে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো গেলে বোতলপ্রতি খরচ কিছুটা কমবে। এ জন্য আগামী ছয় মাসের মধ্যে উৎপাদন দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আমিনুল ইসলাম, এমডি, ঢাকা ওয়াসা

সক্ষমতা থাকলেও উৎপাদন সীমিত

ঢাকা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাসে প্রায় আট লাখ লিটার শান্তি পানি উৎপাদিত হয়। পানি শুধু দুই কিংবা পাঁচ লিটারের বোতলে উৎপাদিত হয় না। ২৫০ ও ৫০০ মিলিলিটার, ১, দেড়, ২ ও ৫ লিটারের বোতলের পাশাপাশি ২০ লিটারের জারেও এই পানি বিক্রি করা হয়।

প্রতি ঘণ্টায় ছয় হাজার লিটার পানি বোতলজাত করার সক্ষমতার তুলনায় বর্তমান উৎপাদন কম। আট লাখ লিটার পানি পূর্ণ সক্ষমতায় বোতলজাত করতে মাসে প্রায় ১৩৩ ঘণ্টা যন্ত্র চালাতে হয়। অর্থাৎ ৩০ দিনে গড়ে প্রতিদিন সাড়ে চার ঘণ্টার কম। বোতলের আকার পরিবর্তন, যন্ত্র পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের সময় ধরলেও প্ল্যান্টের বড় একটি সক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে না।

প্ল্যান্টে কর্মরত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, উৎপাদন বাড়াতে টানা ১০ ঘণ্টা যন্ত্র চালানোর সক্ষমতা রয়েছে। তবে প্ল্যান্টের কিছু যন্ত্রপাতি প্রায় ২০ বছরের পুরোনো। উৎপাদন বাড়াতে হলে পুরোনো যন্ত্রের পাশাপাশি আধুনিক কিছু যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে হবে।

ওয়াসা জানিয়েছে, নিজস্ব গাড়িতে ডিলার ও গ্রাহকের কাছে পানি পৌঁছে দেওয়া হয়। এ জন্য সেবা মাশুল নেওয়া হয়। তবে ২০ লিটারের জার ডিলাররা নিজেদের পরিবহনে নিয়ে যান। গ্রাহকেরা মিরপুরের প্ল্যান্ট অথবা ওয়াসার বিক্রয়কেন্দ্র থেকেও পানি সংগ্রহ করতে পারেন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ওয়াসা ভবনের নিচে নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্রে সাজিয়ে রাখা শান্তি পানি
ফাইল ছবি: প্রথম আলো

উৎপাদন আছে, দোকানে নেই

শান্তি পানির সবচেয়ে বড় সমস্যা বাজারজাতকরণ। রাজধানীতে বোতলজাত পানির প্রধান বিক্রয়স্থল মুদিদোকান, হোটেল, রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান ও সুপারশপ। কিন্তু এসব জায়গায় শান্তি পানি সচরাচর দেখা যায় না।

ঢাকা ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর গাড়ি প্রতিদিন নির্ধারিত পথে দোকানে দোকানে পানি পৌঁছে দেয়। কোনো দোকানে মজুত শেষ হলে বিক্রয় প্রতিনিধিকে ফোন করেও নতুন চালান পাওয়া যায়। শান্তির ক্ষেত্রে এমন সরবরাহব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এর পরিবেশক ও বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যাও সীমিত। অনেক ক্ষেত্রে ডিলার বা গ্রাহককে প্ল্যান্ট কিংবা ওয়াসার বিক্রয়কেন্দ্র থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়।

খুচরা ব্যবসায়ীর কম লাভও শান্তি পানি বিক্রির পথে বড় বাধা। একই জায়গা ব্যবহার করে বেসরকারি কোম্পানির পানি বিক্রিতে দ্বিগুণের বেশি লাভ হলে দোকানিরা স্বাভাবিকভাবেই সেই পণ্য রাখতে বেশি আগ্রহী হন।

আবার প্রচারেও পিছিয়ে রয়েছে শান্তি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিজ্ঞাপন, দোকানের সাইনবোর্ড, ফ্রিজ, ছাতা ও বিভিন্ন প্রচারসামগ্রীর মাধ্যমে নিজেদের পণ্য ক্রেতাদের সামনে রাখে। শান্তি পানির ক্ষেত্রে ওয়াসার এমন কোনো দৃশ্যমান প্রচার নেই। ফলে দুই দশক আগে বাজারে এলেও বহু মানুষ এখনো জানেন না, ঢাকা ওয়াসা বোতলজাত পানি উৎপাদন করে।

ওয়াসা দীর্ঘদিন শান্তিকে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবেও বাজারজাত করেনি। উৎপাদিত পানির একটি অংশ সরকারি দপ্তর, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সভা, অনুষ্ঠান ও বিশেষ প্রয়োজনে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষ প্রতিদিন যেসব জায়গা থেকে পানি কেনেন, সেখানে পণ্যটি পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি হয়নি।

সম্প্রতি মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, শাহবাগ, মালিবাগ, গুলশান, বনানী ও কারওয়ান বাজারের বিভিন্ন দোকানে খোঁজ নিয়েও শান্তি পানি পাওয়া যায়নি।

ঢাকা ওয়াসার প্রতি ঘণ্টায় ছয় হাজার লিটার পানি বোতলজাত করার সক্ষমতার তুলনায় বর্তমান উৎপাদন কম। আট লাখ লিটার পানি পূর্ণ সক্ষমতায় বোতলজাত করতে মাসে প্রায় ১৩৩ ঘণ্টা যন্ত্র চালাতে হয়। অর্থাৎ ৩০ দিনে গড়ে প্রতিদিন সাড়ে চার ঘণ্টার কম। বোতলের আকার পরিবর্তন, যন্ত্র পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের সময় ধরলেও প্ল্যান্টের বড় একটি সক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে না।

বিক্রি বাড়ালেই কি লোকসান কমবে

ঢাকা ওয়াসার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, আধা লিটারের একটি বোতল উৎপাদনে বর্তমানে প্রায় ১১ টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু ডিলার বা ব্যবসায়ীদের কাছে সেটি বিক্রি করা হয় ৯ টাকায়। বোতলের গায়ে খুচরা মূল্য লেখা রয়েছে ১৫ টাকা। বিপরীতে বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের ২০ টাকা দামের আধা লিটারের বোতল দোকানি প্রায় ১১ টাকায় কিনতে পারেন। সেটি বিক্রি করে তাঁর নয় টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বিক্রেতাকে আরও বেশি সুবিধা দিয়ে থাকে।

ঢাকা ওয়াসার এমডি আমিনুল ইসলাম উৎপাদন বাড়িয়ে লোকসান কমিয়ে আনার কথা বললেও বর্তমান উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত রেখে শান্তি পানির উৎপাদন বাড়ানো হলে লোকসান বাড়তে পারে বলেও সংশ্লিষ্টদের ধারণা। কারণ, সাধারণ হিসাবে খরচের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করে শুধু উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো কোনো প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করে না।

আবার শুধু দাম বাড়ালেও সমস্যার সমাধান হবে না। বোতলের উৎপাদন ব্যয় কমানো, নিয়মিত সরবরাহ, দোকানির জন্য যৌক্তিক লাভ এবং ক্রেতার কাছে ব্র্যান্ডটির গ্রহণযোগ্যতা—সব কটি বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এদিকে দেশে বোতলজাত পানির বাজার দ্রুত বাড়ছে। নগরায়ণ, নিরাপদ পানির চাহিদা এবং মানুষের আয় বৃদ্ধির কারণে এই বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। পানির মানের পাশাপাশি পণ্যটি সহজে পাওয়া যায় কি না এবং দাম কত—সেটিও ক্রেতার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বোতলজাত পানি থেকে আলাদাভাবে কত নিট মুনাফা করছে, তার নিরীক্ষিত হিসাব প্রকাশ করে না। তবে প্রায় সব এলাকায় তাদের পণ্য পাওয়া যায়। এর পেছনে রয়েছে শক্তিশালী পরিবেশক নেটওয়ার্ক, দোকানিদের বেশি লাভ এবং নিয়মিত সরবরাহ।

মিরপুর–১১ নম্বর এলাকার এক মুদিদোকানি প্রথম আলোকে বলেন, ‘যে পণ্য দোকানে নিয়মিত পৌঁছায় না এবং বিক্রি করে অন্য ব্র্যান্ডের তুলনায় কম লাভ হয়, সেটি দোকানিরা কেন রাখবেন?’

ঢাকার মিরপুরে প্ল্যান্টে উৎপাদিত শান্তি পানি নিয়ে বের হচ্ছে ঢাকা ওয়াসার গাড়ি
ফাইল ছবি: প্রথম আলো

দুই দশকেও ছিল না পূর্ণকালীন দায়িত্ব

ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন প্ল্যান্টটি পরিচালনার জন্য কোনো কর্মকর্তাকে পূর্ণকালীন দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। কর্মকর্তাদের মূল কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্ল্যান্টের কাজ দেওয়া হতো। ফলে উৎপাদন কম হলে, বিক্রি না বাড়লে বা লোকসান হলে কার কাছে জবাব চাওয়া হবে, সেই কাঠামো গড়ে ওঠেনি।

সম্প্রতি একজন কর্মকর্তাকে পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন ও বিক্রি বাড়িয়ে প্ল্যান্টটিকে লাভজনক করার পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।

তবে প্ল্যান্ট চালুর সময়ই যে পেশাদার ব্যবস্থাপনা, বিপণন পরিকল্পনা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকার কথা ছিল, তা করতে প্রায় দুই দশক লেগে যাওয়াকে ওয়াসার বড় ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

লাভে ফেরাতে যা করতে হবে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথমেই স্বাধীনভাবে প্ল্যান্টের প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণ করতে হবে। পানি শোধন, বোতল, ছিপি, লেবেল, বিদ্যুৎ, জনবল, পরিবহন, যন্ত্র মেরামত ও নষ্ট হওয়া পণ্যের খরচ আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে। এরপর এমন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করতে হবে, যাতে ওয়াসা লোকসান না করে এবং খুচরা ব্যবসায়ীরাও পণ্যটি বিক্রি করতে আগ্রহী হন।

প্ল্যান্টটিকে ওয়াসার সাধারণ প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে না চালিয়ে আলাদা বাণিজ্যিক ইউনিট করা যেতে পারে। এর প্রধানকে উৎপাদন, বিক্রি, বাজার সম্প্রসারণ ও লোকসান কমানোর নির্দিষ্ট লক্ষ্য দিতে হবে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত পরিবেশক নিয়োগ করে নির্ধারিত পথে নিয়মিত দোকানে পানি পৌঁছে দিতে হবে।

সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও সরকারি অনুষ্ঠানে স্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে শান্তি পানি সরবরাহ করা যেতে পারে। অনলাইনে অর্ডার নেওয়া, বাড়িতে জার পৌঁছে দেওয়া এবং বড় ক্রেতাদের জন্য আলাদা সরবরাহব্যবস্থা চালু করলেও বিক্রি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মাসে কত পানি উৎপাদিত ও বিক্রি হলো, কত টাকা আয় ও ব্যয় হলো এবং কোন প্রতিষ্ঠান বোতল, কাঁচামাল ও পরিবহনসেবা দিচ্ছে—এসব তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন। সামাজিক কারণে কম দামে পানি বিক্রি করা হলে ভর্তুকির পরিমাণও আলাদাভাবে হিসাব দেখাতে হবে।

নগর–পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান প্রথম আলোকে বলেন, জনগণের টাকায় গড়া একটি প্ল্যান্ট উৎপাদন করেও যদি মানুষের কাছে পানি পৌঁছাতে না পারে এবং বছরের পর বছর লোকসান দেয়, তাহলে সেটি স্পষ্টতই ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা। স্বচ্ছ হিসাব, পেশাদার বিপণন ও শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা ছাড়া শান্তি পানি লাভজনক হবে না। এ জন্য ওয়াসাকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

আরও পড়ুন