মৌচাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা হত্যায় রিমান্ড শেষে কারাগারে আল–আমিন
রাজধানীর মৌচাক এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন তালুকদার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আল-আমিন মাহিনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার চার দিনের রিমান্ড শেষে মাহিনকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার পরিদর্শক আতিকুল আলম খন্দকার তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে দাখিল করা তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, রিমান্ডে আল-আমিনকে মামলার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্য দিলেও সেগুলো ধারাবাহিক ও সুস্পষ্ট নয়। তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিচ্ছিন্নভাবে দিয়েছেন, যা সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এসব তথ্য মামলার তদন্তে সহায়ক হবে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাতে পারেন এবং পলাতক হওয়ার আশঙ্কা আছে।
শুনানি শেষে তদন্ত কর্মকর্তা আতিকুল আলম খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তের স্বার্থে আল-আমিনকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়েছিল, আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে ঢাকা থেকে আল-আমিন মাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গত বুধবার আদালত তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিল্লাল হোসেন তালুকদার রমনা এলাকার আরাফাত মার্কেটে ব্যবসা করতেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দিদারুল ইসলাম বাবুসহ কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল।
৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে দিদারুল ইসলাম বাবু সালিসের কথা বলে বিল্লাল হোসেনকে আরাফাত মার্কেটের পেছনে ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে দিদারুল ইসলাম বাবু ও তাঁর সহযোগীরা লোহার রড, ক্রিকেট স্টাম্প ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিল্লাল হোসেনকে আঘাত করেন। এ সময় রিয়াজুল হাসান, আল-আমিন মাহিনসহ অন্য আসামিরাও হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার এক পর্যায়ে দিদারুল ইসলাম বাবু ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিল্লাল হোসেনের বুকে আঘাত করেন। আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসকেরা বিল্লালকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী আছিয়া খাতুন বাদী হয়ে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দিদারুল ইসলাম বাবুসহ ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে।