স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বঙ্গবন্ধুর ‘জনগণের পুলিশ’ হয়ে জনগণের পাশে যেতে পেরেছে। জনগণের কাছে পুলিশ তাদের নির্ভরতা ও আস্থার জায়গা তৈরি করতে পেরেছে। এটা ধরে রাখতে হবে।‌ পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন বলেই সন্ত্রাস দমনে আজ আমরা বিশ্বে প্রশংসিত। আপনারা সফল হতে পেরেছেন বলেই জলদস্যু, বনদস্যু পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।’

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আমিনুল ইসলাম খান বলেন, এখন পুলিশের কর্মপরিধি বেড়েছে, চ্যালেঞ্জ বেড়েছে। অপরাধের ধরন ও কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। দেশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে বলেই দেশের অগ্রগতি অব্যাহত আছে।

অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা: আইজিপি

এর আগে সকালে সম্মেলনের শুরুতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদকসহ অন্য অপরাধে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

কিশোর অপরাধ প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, কিশোরেরা নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কিশোর অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে, যাতে কোনো এলাকায় কিশোর অপরাধের নামে ‘গ্যাং সংস্কৃতি’ গড়ে উঠতে না পারে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ডাকাতি, চুরিসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে আরও সতর্ক ও মামলা ‘মনিটরিং’ বাড়াতে হবে বলেও মন্তব্য করেন আইজিপি।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সভাপতিত্বে পুলিশের এ সম্মেলনে জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের সার্বিক অপরাধ চিত্র উপস্থাপন করেন ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) ওয়াই এম বেলালুর রহমান। সভায় সিআইডিকে নিয়ে অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া, পিবিআই বিষয়ে অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার এবং অপারেশন–সংক্রান্ত বিষয়ে ডিআইজি (অপারেশনস) হায়দার আলী খান উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

সভায় অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) কামরুল আহসান, অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) আতিকুল ইসলাম, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলামসহ সব অতিরিক্ত আইজিপি, মহানগর পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও সব জেলা পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন।