ভারতের গণমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে এখনো কথা বলতে দেওয়া অপ্রত্যাশিত: তথ্য উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আজ দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনেছবি: বাসস

ভারতে পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশটির প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য, সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ও অস্বস্তিকর (ইরিটেটিং) বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতিসহ সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে ভারত সরকারের উচিত সেখানে বসে তাঁকে (শেখ হাসিনা) এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।’

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর নিশ্চিত করেছেন যে শেখ হাসিনার আর আপিল করার সুযোগ নেই। তাঁকে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় অনুযায়ী সাজা কার্যকর করাই এখন সরকারের লক্ষ্য।

ভারত সরকার যেন শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলতে না দেওয়ার মাধ্যমে সম্পর্কের উন্নয়নে ‘পজিটিভ সিগন্যাল’ দেয়—সে বিষয়ে নজর দেওয়ার তাগিদ দেন জাহেদ উর রহমান। তিনি এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে প্রশ্ন তুলতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইবা) নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এটি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে বা বৈষম্য সৃষ্টির জন্য নয়, বরং দক্ষ-যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করতেই সরকার এই পরিবর্তন এনেছে।

নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বোয়িং কেনার অর্থ সরকারকে এখনই এককালীন পরিশোধ করতে হচ্ছে না। ধাপে ধাপে দীর্ঘ সময় ধরে এই পেমেন্ট দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এয়ারবাস থেকেও উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, দেড় বছর সময় পাওয়া সত্ত্বেও বিগত সময়ে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বা বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে বর্তমান সরকারকে দ্রুততম সময়ে জনগণের সাময়িক সংকট কমাতে চীনের সঙ্গে চুক্তিসহ জরুরি পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী ‘এল নিনো’ আবহাওয়া পরিস্থিতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। তবে বর্তমানে দেশে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে খাদ্যের সর্বোচ্চ মজুত রয়েছে। সম্ভাব্য খাদ্যসংকট সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদ এবং তথ্য অধিদপ্তরের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।