দেশে ২২টি মহাসড়কে আগে থেকেই তিন চাকার যান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পর এখন নতুন করে পাঁচটিতে কেন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, পুলিশ ও জনবল এত বেশি নেই যে সারা দেশে এটা তদারকি করবে। আপাতত গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি মহাসড়কে তদারকি করা হবে। ধীরে ধীরে এটা বাড়বে। তিনি জানান, নতুন সিদ্ধান্ত আজ বুধবার থেকে কার্যকর হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইজিবাইকসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচলের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলেও আলোচিত হচ্ছে। চলমান বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশগুলোর আগের দিন থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো ধর্মঘট ডেকেছে। তাদের দাবি ছিল, মহাসড়কে ইজিবাইকসহ তিন চাকার যান চলাচল বন্ধ করতে হবে।

১৯ নভেম্বর সিলেট ও ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায় গণসমাবেশ আছে। এখন দেখার বিষয়, বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের দিন পরিবহন ধর্মঘট হয় কি না।

পরিবহনসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গতকালের সিদ্ধান্তের পেছনে আরও কিছু রাজনৈতিক বিষয় যুক্ত থাকতে পারে। ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও ফরিদপুরে বিএনপির গণসমাবেশের দিন বাস-ট্রাক না পেয়ে অনেকে ইজিবাইক, নছিমন, করিমনসহ তিন চাকার যানবাহনে করে সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ যদি বিএনপির ঢাকার মহাসমাবেশে জমায়েত ঠেকাতে চায়, তাহলে অন্য ইস্যুতে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা কোনো বিষয় নয়। এ ক্ষেত্রে ঢাকার মহাসমাবেশে বিকল্প বাহন হিসেবে নছিমন, করিমন কিংবা ইজিবাইক ব্যবহারও করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেগুলো আটকে দেবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার। তিন চাকার যানবাহন চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক বিবেচনা ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার বিষয়টি চলমান প্রক্রিয়া। এর অংশ হিসেবে পাঁচটি মহাসড়কে আইনের প্রয়োগ জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বিষয়ের সম্পর্ক নেই।

মহাসড়কে মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ হচ্ছে না

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গতকালের বৈঠকে সাতটি আলোচ্য বিষয় ছিল। এগুলো হচ্ছে সড়ক নিরাপদ করতে ১১১ দফা সুপারিশ বাস্তবায়ন, সড়ক পরিবহন আইনের প্রয়োগ, ইজিবাইকসহ তিন চাকার যান নিয়ন্ত্রণে একটি নীতিমালা প্রণয়নের অগ্রগতি, জাতীয় নিরাপদ সড়ক কৌশলগত পরিকল্পনা অনুমোদন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং স্টেশনের জায়গা চিহ্নিত করা, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের জমিতে বাস টার্মিনাল নির্মাণে প্রস্তাব তৈরি, জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করা।

মোটরসাইকেলের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, মহাসড়কে মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং কীভাবে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই জনবহুল দেশে এটি বহু বেকারের কর্মসংস্থান। মোটরসাইকেল এবং তিন চাকার যান নিয়ন্ত্রণে একটা নীতিমালা হচ্ছে।

চালকের লাইসেন্স সম্পর্কে সড়কমন্ত্রী বলেন, এখন লাইসেন্সের আবেদন করতে বিআরটিএ কার্যালয়ে যেতে হবে না। অনলাইনে ঘরে বসেই এই আবেদন করা যাবে। শুধু একবার বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্যের জন্য আঙুলের ছাপ দেওয়াসহ ছবি তুলতে যেতে হবে।

ওবায়দুল কাদের জানান, সড়ক নিরাপদ করতে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ৪ হাজার ৮০ কোটি টাকার একটি ঋণের আলোচনা চলছে। এর মধ্যে প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রোড সেফটি আমাদের খুবই প্রয়োজন। সড়কের নিরাপত্তা সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়।’

বৈঠকে নিরাপদ সড়কসংক্রান্ত কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২১-২৪ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. কামাল হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, সওজের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম মনির হোসেন পাঠান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী প্রমুখ।