সাংবাদিক আজহার আলীকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

সাংবাদিক আজহার আলী সরকারকে হইলচেয়ারে বসিয়ে আদালতে আনা হয়। আজ সোমবার, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেছবি: প্রথম আলো

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর শাহবাগ থানায় করা এক মামলায় সাংবাদিক আজহার আলী সরকারকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত পুলিশের আবেদনে এ আদেশ দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।

কারাবন্দী ৫৭ বছর বয়সী আজহার আলী আদালতে এসেছিলেন হুইলচেয়ারে। তাঁকে এখন যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ হয়েছে, গত বছর ‘মঞ্চ ৭১’–এর একটি গোলটেবিল বৈঠক ঘিরে করা এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীও আসামি।

শুনানিতে গ্রেপ্তার দেখানোর যুক্তি তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, আসামি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. রিপন আদালতকে বলেন, আজহার আলী সরকার দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, লিভার, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

একটি মামলায় জামিন পাওয়ার আগেই আসামিকে নতুন আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মো. রিপন।

দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে আদালতের হাজতখানা থেকে হুইলচেয়ারে করে আজহার আলী সরকারকে এজলাসে আনা হয়। শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি নির্দোষ। তাঁকে অন্যায়ভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। ‘মঞ্চ ৭১’-এর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

সাংবাদিক আজহার আলী একসময় দৈনিক আমাদের সময়–এ কাজ করতেন। তবে বর্তমানে তিনি কোনো সংবাদপত্রে যুক্ত নেই।

গত বছরের ১০ অক্টোবর রাতে রাজধানীর বনশ্রী এলাকা থেকে আজহার আলীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর তাঁকে একাধিক মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের রমনা বিভাগের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আখতার মোর্শেদ ১৮ জুন আজহার আলীকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে আজহার আলী সরকারও ঘৃণা সৃষ্টি, ঝটিকা মিছিল করা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের পরিকল্পনা ও প্ররোচনায় জড়িত ছিলেন। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

মামলার অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৮ আগস্ট সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মঞ্চ ৭১’-এর গোলটেবিল বৈঠক চলাকালে হট্টগোল, ভাঙচুর ও অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটে। তখন পুলিশ গিয়ে লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে আটক করে। এরপর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় লতিফ সিদ্দিকী এখন জামিনে মুক্ত রয়েছেন।