হিজড়া ডায়না হত্যায় গ্রেপ্তার ১, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
রাজধানীর গোলাপবাগে হিজড়া মাকসুদুর রহমান ওরফে ডায়না হত্যায় জড়িত অভিযোগে শোয়েব আক্তার ওরফে লাদেন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে তাঁকে শেরপুরের নালিতাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার তিনি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আজ বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউল আহসান তালুকদার বলেন, ডায়নার (৪৮) সঙ্গে শোয়েবের যৌন সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি শোয়েব বিয়ে করেন এবং তিনি ডায়নার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু ডায়না তাঁকে ছাড়তে চান না। জিজ্ঞাসাবাদে শোয়েব বলেন, ১৬ আগস্ট শোয়েব বাসার টেবিলে থাকা হাতুড়ি দিয়ে ডায়নার মাথায় আঘাত করেন। রক্তাক্ত ডায়না অচেতন হয়ে পড়লে শোয়েব বাড়ির বন্ধ ফটক না খুলে টপকে পালিয়ে যান। এরপর ডায়নার লাশ যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগের ওই বাসায় তাঁর ঘরে ১১ দিন পড়ে ছিল। ২৭ আগস্ট গোলাপবাগের ওই বাসা থেকে ডায়নার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একতলা ওই বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। গতকাল শোয়েবকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে তাঁকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ডিবির কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান বলেন, ডায়নার ছয় ভাইবোন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি নিজেও আগে সেখানে থাকতেন। দুই বছর আগে দেশে ফিরে গোলাপবাগে নিজেদের ওই বাসায় তিনি থাকতে শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে এক ফুফাতো ভাই গত শনিবার পুলিশে খবর দেয়। এরপর ডায়নার বাসা থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। তিনি বলেন, হিজড়া ডায়না সমাজের কারও সঙ্গে মিশতেন না।
শোয়েব তাঁর বাসায় কাজ করতেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছুদিন আগে শোয়েব অন্য একজনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরও শোয়েব ও ডায়নার মধ্যে সম্পর্ক চলতে থাকে। কিন্তু শোয়েবের ওই বিয়ে আর নতুন জীবন কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না ডায়না।
পুলিশ কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান বলেন, ডায়না আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী। তিনি শোয়েবকে ছাড়তে চাননি। ডায়নার বাড়ির দেয়াল অনেকটা উঁচু হওয়ায় এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ না থাকায় তাঁর মরদেহ ঘরের ভেতরেই পড়ে ছিল। আশপাশের কেউ বিষয়টি টের পাননি।