জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জবানবন্দি দেওয়া এক সাক্ষীর বিরুদ্ধে যাঁরা মিছিল করেছিলেন এবং ব্যানার টানিয়েছিলেন, তাঁরা ছাত্রদলের সদস্য। এর পেছনে ভুক্তভোগী সাক্ষীর কর্মরত প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষকও জড়িত ছিলেন।
আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-কে এসব তথ্য জানিয়েছেন রাজধানীর বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম। তিনি ট্রাইব্যুনালকে আরও জানান, সেই সাক্ষীর বিরুদ্ধে টানানো দুটি ব্যানারও অপসারণ করা হয়েছে।
এ সময় বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ বলেন, ‘যে দলেরই হোক, সবগুলোকে ধরবেন। আমরা সবগুলোকে কাস্টডিতে পাঠাব। আপনার (ওসি) সমস্যা হলে আমাদের জানাবেন। আপনার নিরাপত্তা আমরা দেব।’
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
গত বৃহস্পতিবার চানখাঁরপুলের মামলায় ওই সাক্ষীর নিরাপত্তা চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিল প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। এর ধারাবাহিকতায় আজ শুনানি হয়।
শুনানির পর আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। তাঁকে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তরুণদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না, তখন ছাত্রদলের কথা বলা হয়েছিল।
প্রসিকিউটর মোনাওয়ার হুসাইন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর বেশ কিছু সুবিধাভোগী মানুষ রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করেছে। অথবা প্রতিটি দলেই কিছু উচ্ছৃঙ্খল, অথবা যারা তাদের দলের আইডিওলজিকে (আদর্শ) মনেপ্রাণে ধারণ করেন, কিন্তু কার্যক্রমে দেখা যায় না, এ রকম কিছু ছাত্র থাকতে পারে। ট্রাইব্যুনাল পুলিশ কর্মকর্তাকে পেশাদারত্ব দেখাতে বলেছেন এবং তাঁকে সব রকম সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছেন।
১৪ আগস্ট প্রসিকিউটর মোনাওয়ার হুসাইন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, চানখাঁরপুলের মামলায় একজন সাক্ষী যখন ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিচ্ছিলেন, ঠিক সে সময় তাঁর প্রতিষ্ঠানের কিছু ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে অপ্রীতিকর, অসম্মানজনক ও তাঁর নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কার্যক্রম করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কিছু ব্যানার টানানো হয়েছে, মিছিল করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে (১৪ আগস্ট) ভুক্তভোগী সাক্ষীর দেওয়া ছবি ও ভিডিওর ওপর ভিত্তি করে সুরক্ষার আবেদন করা হয়। সেদিন ট্রাইব্যুনাল সাক্ষীর কর্মক্ষেত্রের প্রধান ও ওসিকে সাক্ষীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি ব্যানার, পোস্টার সরানোর জন্যও বলা হয়। সেদিন (ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে মিছিল যেদিন করা হয়েছিল) সেখানে কী ঘটেছে, সেই বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।