স্বাস্থ্য পরিস্থিতি
১০ হাজার মানুষের জন্য দরকার ৪৪ দশমিক ৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী, আছে ৮ দশমিক ৩ জন
চিকিৎসা খরচ মেটাতে গিয়ে প্রতিবছর দেশের ৬১ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যায়। দেশের ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে না। দেশে ১০ হাজার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর্মী ৮ দশমিক ৩ জন। পরিস্থিতি সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের অনুকূলে নয়।
আজ সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিষয়ক অগ্রগতি পর্যালোচনা সংলাপে এই কথা বলা হয়। ইউনিসেফ, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ইউএসসি ফোরাম যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব হবে না।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পিপিআরসির নির্বাহী সভাপতি হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নতি করতে নতুন সরকারকে শূন্য থেকে শুরু করার প্রয়োজন হবে না। স্বাস্থ্যের কিছু ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে, কিছু ক্ষেত্র অনেক দূর এগিয়েছে, কিছু উন্নতি থেমে আছে, কিছু বিষয়ে ঘাটতি আছে। শূন্য পদ পূরণ করলেই স্বাস্থ্য খাতে গতি আসবে।
মূল উপস্থাপনায় সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনে অগ্রগতির সূচক ও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন ইউএসসি ফোরামের সদস্যসচিব মো. আমিনুল হাসান। তিনি বলেন, সেবার ব্যাপ্তি, আর্থিক সুরক্ষা, সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি ও ন্যায্যতা—এই চার ক্ষেত্রেই দেশের পরিস্থিতি সন্তোষজনক না। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি বাংলাদেশের চেয়ে ভালো।
মো. আমিনুল হাসান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী ১০ হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক, নার্সসহ ৪৪ দশমিক ৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী থাকা দরকার, দেশে আছে ৮ দশমিক ৩ জন। দেশে মানসম্মত প্রসবপূর্ব সেবা পাচ্ছেন ৪১ শতাংশ নারী। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসা পাচ্ছেন যথাক্রমে ৩৪ শতাংশ ও ১৯ শতাংশ রোগী।
মূল উপস্থাপনায় বলা হয়, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে ও টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। ৯৮ শতাংশ শিশু টিকা পায়। অন্যদিকে যক্ষ্মারোগী চিকিৎসায় সাফল্য উল্লেখযোগ্য (৯৫ শতাংশ)। তবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, যক্ষ্মা কর্মসূচিতে দুর্নীতি আছে, পরিসংখ্যান জাল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে জনস্বাস্থ্যবিদ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক এম এ ফয়েজ বলেন, কাকে স্বাস্থ্যকর্মী বলা হবে, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমিনেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হায়দার তালুকদার বলেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার আলোচনায় রোগ প্রতিরোধ, ফার্মেসি সেবা, পুষ্টির মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব কম পায়।
অনুষ্ঠানে সাবেক স্বাস্থ্যসচিব আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোশতাক হোসেন, জনস্বাস্থ্যবিদ মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, চারটির মধ্যে আজকেরটি ছিল দ্বিতীয় সংলাপ অনুষ্ঠান। প্রথম সংলাপটি ছিল প্রাথমিক স্বাস্থ্য বিষয়ে। পরবর্তী সংলাপ হবে নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য নিয়ে।