‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের জেরে আইজিপির অপসারণ চাইল এনসিপি
সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে—পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন বক্তব্যকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অনুমতি চাওয়া’ হিসেবে দেখছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বলেছে, এ ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বেআইনি বলপ্রয়োগের প্ররোচনা জোগাবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন পথ উন্মুক্ত করবে। এই আইজিপিকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করতে হবে।
আজ সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি জানিয়েছে এনসিপি। দলের দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন।
আজ দুপুরে পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, ‘যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে আমরা সেটাই করব।’
আইজিপির বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপি বলেছে, এনসিপি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চায়, সরকারের অনুমোদন বা অনুমতি দিয়েও কখনো কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায় না। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি তাদের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা দফায় বলেছিল, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটানো হবে; কিন্তু তাদের সরকারের আমলে নিয়োগকৃত আইজিপির এমন বক্তব্য স্পষ্টই তাদের নিজেদের অঙ্গীকারের সঙ্গে দ্বিচারিতা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে অযোগ্য লোক নিয়োগের সাক্ষাৎ নজির।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিরোধী দলের নেতা–কর্মীদের বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়, বিগত স্বৈরাচারের আমল থেকে শিক্ষা না নিয়ে বর্তমান সময়ে এসে আবার পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ধরনের উসকানিমূলক ও বেআইনি বক্তব্য দেওয়া চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যর্থতা ঢাকতে ‘ক্রসফায়ার’-এর জুজু দেখানো একধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দেউলিয়াত্ব। এ ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বেআইনি বলপ্রয়োগের প্ররোচনা জোগাবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন পথ উন্মুক্ত করবে।
অবিলম্বে আইজিপির অপসারণ দাবি করে এনসিপি বলেছে, সরকারের বেআইনি নির্দেশ পালনে পুলিশ প্রশাসন বাধ্য নয়, বাংলাদেশের আইনে পরিস্কারভাবে তা উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় পুলিশ বাহিনীকে সব ধরনের বেআইনি চর্চা থেকে মুক্ত করে একটি জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনে জুলাই সনদের আলোকে অবিলম্বে ‘পুলিশ কমিশন’ গঠন করতে হবে।