বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সঙ্গে যাঁরা সরাসরি জড়িত ছিল, তাদের বিচার হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ওই হত্যাকাণ্ডের চক্রান্তের পেছনে কারা ছিল, তা খুঁজে বের করার সময় এসেছে।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে এক সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সপরিবার বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ঘটনা বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু হত্যাকাণ্ড নয়। এ চক্রান্ত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে। এ হত্যার চক্রান্তকারীদের বের করে জাতির সামনে তাদের চেহারা উন্মুক্ত করা দরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, জানি অনেক কিছুই কিন্তু, আমি তো বলেছি সব ব্যথা, সবকিছু ধারণ করেই, যত শোক সব বুকে নিয়েই আমার পথচলা। আমি তো নীলকণ্ঠ হয়ে বেঁচে আছি। আমি অনেক জানি, বলতে পারব না, বলি না। কারণ, আমার একটাই লক্ষ্য, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। এটা যখন সার্থকভাবে করতে পারব, তখনই আমার অনেক কিছু বলার সুযোগ আসবে।’
জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় দিয়েছিলেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই খুনের সাথে কারা জড়িত সেটা স্পষ্ট।’ নিজের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর দীর্ঘ আন্দোলন–সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার সংগ্রাম চালিয়ে গেছি। গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি। পরপর তিনবার ক্ষমতায় থাকার পর আজ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে।’
সরকারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যতই কাজ করা হোক, কিছু লোক পেছনে লাগে। তারা কিছুতেই ভালো দেখে না। তারা একটা মিথ্যা অপপ্রচার চালাবেই। যেখানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার বলছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে নেই, সেখানে দেশের কিছু মানুষ অপপ্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ যেখানে সারা বিশ্বের কাছে সম্মান পাচ্ছে, সেখানে ভেতরের কিছু লোক বাংলাদেশকে অসম্মান করার জন্য অপপ্রচার করে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’
সবাইকে নিয়ে তিনি রাজনীতি করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কারও বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ নিতে যাইনি। আমি বিচারে বিশ্বাস করি। বিচারের মধ্য দিয়েই চলেছি। আমার ইচ্ছা প্রতিশোধ নেওয়া নয়। দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব। আমার বাবাকে হত্যা করে যে মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে, সেই মানুষগুলোর ভাগ্য পরিবর্তন করা, তাদের জন্য সুন্দর জীবন দেওয়া—এটাই আমার লক্ষ্য।’
জাতীয় সংসদে সাধারণ প্রস্তাবটি আনেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করে জাতীয় সংসদ।
আলতু-ফালতু লোক দলে ঢোকালে চলবে না
বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি জানি, ছাত্রলীগ সম্পর্কে অনেক কথা লেখা হয়। এত বড় একটা সংগঠন আর আমরা ক্ষমতায় আছি বলে অনেকেই ভেতরে ঢুকে যায় এবং নিজেরাই গোলমাল করে, বদনামটা পড়ে ছাত্রলীগের ওপর।’ অনুপ্রবেশকারী সম্পর্কে সংগঠনের নেতৃত্বকে সাবধান করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগকে সংগঠন করার সময় গ্রুপ ভারী করতে আলতু-ফালতু লোক দলে ঢোকালে চলবে না। তাতে নিজেদের, দলের ও দেশের বদনাম হয়।’
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের দুটি প্রকাশনা মাতৃভূমি ও জয় বাংলার মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি।