হাসিনা–মেনন–কামরুলের পরামর্শে কারফিউ জারি, ম্যাসাকার হয়

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালফাইল ছবি: প্রথম আলো

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের পরামর্শে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় কারফিউ জারি করা হয়েছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সাক্ষী মো. সাকিব আহম্মেদ। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি টেলিভিশন ও পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আজ সোমবার অবশিষ্ট জবানবন্দিতে সাকিব আহম্মেদ এ কথা বলেন।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাকিব আহম্মেদ এই জবানবন্দি দেন। তিনি রাজধানীর নতুন বাজারের বেসরকারি ইউআইটিএস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে তিনি অংশ নিয়েছিলেন।

জবানবন্দিতে সাকিব আহম্মেদ বলেন, টেলিভিশন ও পত্রপত্রিকার মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনের সভায় শেখ হাসিনা, রাশেদ খান মেনন, কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের পরামর্শে কারফিউ জারি করে ছাত্র–জনতার ওপর ম্যাসাকার করা (হত্যাযজ্ঞ চালানো) হয়। নিরীহ জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে অসংখ্য ছাত্র–জনতাকে নিহত ও আহত করা হয়। তিনি জানতে পারেন, বাড্ডাসহ আশপাশের এলাকায় মারুফসহ আরও ২৩ জন ব্যক্তি নিহত হন। পরে জানতে পারেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে একই বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হন।

এ মামলার আসামি রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলাম কারাগারে আছেন। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।