শওকত আলীর ২৫ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান চেয়ে করা আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ
ইস্টার্ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২৫ মিলিয়ন ডলার যুক্তরাজ্য থেকে দুবাইয়ে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবরে একটি আবেদন দেওয়া হয়। আবেদনটি ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার রুলসহ এই আদেশ দেন।
এর আগে ইস্টার্ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২৫ মিলিয়ন ডলার যুক্তরাজ্য থেকে দুবাইয়ে পাচার করা এবং সংশ্লিষ্ট ১৩৬ কোটি টাকা কর ও প্রায় ৩০৭ কোটি টাকা জরিমানার বিষয়গুলো অনুসন্ধান করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর ১২ আগস্ট ওই আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এইচ এম রেজওয়ানুল সাঈদ। এতে দৃশ্যমান ফল না পেয়ে চলতি সপ্তাহে রিটটি করেন তিনি।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব, আইনজীবী মোহাম্মদ আলী এবং এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কাজী আখতার হোসেন।
পরে আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) তদন্তের সময় শওকত আলী চৌধুরীর যুক্তরাজ্যের ব্যাংক হিসাবে ২৫ মিলিয়ন ডলারের সন্ধান পায়। অর্থের উৎস কী, তা শওকত আলী চৌধুরীর কাছে জানতে চায় এনসিএ। শওকত আলী জবাব দিলে তা সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে রিপোর্ট করে এনসিএ। কিন্তু বিএফআইইউ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। চার সপ্তাহ পরে ওই অর্থ রিলিজ করে দেওয়া হয়। এর পরপরই শওকত আলী ওই অর্থ দুবাইয়ে স্থানান্তর করেন। ওই অর্থ আয়কর রিটার্নে ঘোষণা না করায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অ্যাসেসমেন্ট করে কর ও জরিমানা আরোপ করে।
ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির রিপোর্ট সত্ত্বেও ওই অর্থ ফিরিয়ে আনতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় রিটটি করা হয় বলে জানান আইনজীবী সানজিদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির অবহিত করা সত্ত্বেও শওকত আলী চৌধুরীর ওই অর্থের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় কার্যধারা গ্রহণ করা হবে না—এ মর্মে রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। বিএফআইইউর প্রধানসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।