রিটে ‘আরেকজনের নাম-পরিচয়ে চাকরি, ১৮ বছর পর তদন্ত’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনসহ গণমাধ্যমে আসা একাধিক খবর যুক্ত করা হয়।

জহিরুল চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি চাকরিতে যোগদানের বিষয়ে সিলেটের কারা উপমহাপরিদর্শক বরাবর একটি আবেদন দেন। এতে ফল না পেয়ে তিনি রিট করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আবুল কালাম।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আওলাদ হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার শুনানিতে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী বলেন, রিট আবেদনকারীর (জহিরুল) পরিবর্তে ১৮ বছর ধরে আরেকজন চাকরি করছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ৮৮ কর্মচারীর (কারাগার) মধ্যে ৩ জন অন্যের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ছদ্মবেশে চাকরি করে আসছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে এসেছে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে অপসারণ করা হয়েছে, একজন চাকরিতে আছেন।

শুনানি নিয়ে আদালত আজ আদেশের জন্য দিন রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি কার্যতালিকায় ওঠে এবং আদালত আদেশ দেন।

হাইকোর্ট জহিরুলের আবেদনটি দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে কারারক্ষী পদে চাকরির জন্য নিয়োগ পরীক্ষা দিয়েছিলেন জহিরুল। নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুলিশি যাচাই (ভেরিফিকেশন) হয়েছিল।

কিন্তু পরে তিনি আর যোগদানপত্র পাননি। চাকরির আশা ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। ১৮ বছর পর জানতে পারেন, তাঁর নাম-পরিচয় ব্যবহার করে একই পদে চাকরি করছেন আরেকজন।