অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবন থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিবকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার, পরে হাসপাতালে মৃত্যু
রাজধানীর রমনায় অফিসার্স ক্লাবের ভেতরে একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলা থেকে গতকাল সকালে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনকে (৭২) রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে রাতে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের ধারণা, ভবনটির বেজমেন্ট-১–এর ফাঁকা জায়গা থেকে নিচে বেজমেন্ট-৩–এর মেঝেতে পড়ে তিনি আহত হন।
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন মিয়া শুক্রবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল সকাল ১০টার দিকে ছোট মেয়েকে সাঁতার শেখাতে অফিসার্স ক্লাবে যান মোশাররফ হোসেন। মেয়েকে সুইমিংপুলের কাছে রেখে তিনি নির্মাণাধীন ভবনটির ভেতরে যান। বেলা সোয়া ১১টার দিকে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশ থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে রাত পৌনে ১২টার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মোশাররফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি ইয়াছিন মিয়া বলেন, অফিসার্স ক্লাবের সিসিটিভিতে দেখা গেছে, তিনি বারবার ওপরে উঠছিলেন আর নিচে নামছিলেন। হয়তো পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে বেজমেন্ট-১–এর ফাঁকা জায়গা থেকে তিনি নিচে পড়ে যান। তাঁর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্ত করতে না চাওয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ওসি বলেন, মোশাররফ হোসেন অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন। তাঁর স্ত্রী আগেই মারা গেছেন। তাঁর বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি দেশে ফেরার পর মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন করা হবে। তিনি রাজধানীর বনানীর ৫ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে বসবাস করতেন। তাঁর বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলার দেওভুনা গ্রামে।