বিটিআরসির দুই কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দুই উপপরিচালককে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের ‘বিধিবহির্ভূত উদ্যোগের’ বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিটিআরসির মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা শাখার এক অফিস আদেশে উপপরিচালক সনজিব কুমার সিংহ ও এস এম আফজাল রেজাকে যথাক্রমে রংপুর ও সিলেটে স্পেকট্রাম মনিটরিং স্টেশনে সংযুক্ত করা হয়। উপপরিচালক পদমর্যাদার আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হতে পারে বলেও বিটিআরসির একটি সূত্র জানিয়েছে।
বদলি করা কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত স্পেকট্রাম মনিটরিং স্টেশনগুলোর সরকারি অনুমোদন নেই এবং উপপরিচালক পদের কর্মকর্তাদের মনিটরিং স্টেশনগুলোতে বদলি বিটিআরসির ইতিহাসে নজিরবিহীন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘মনিটরিং সেন্টারগুলোতে সাধারণত উপসহকারী পরিচালক পদের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেন। বিটিআরসির যে ধরনের অর্গানাইজেশনাল স্ট্রাকচার (সাংগঠনিক কাঠামো, সে অনুযায়ী সেখানে উপপরিচালক পদের কর্মকর্তাদের পদায়নের সুযোগ নেই। কমিশনের বিধিবহির্ভূত উদ্যোগের বিরুদ্ধে রিট করার কারণে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই বদলি করা হয়েছে।’
বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, বিগত সময়ে অডিট আপত্তি রয়েছে এমন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে সম্প্রতি পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেয় কমিশন। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চলতি বছরের মার্চ মাসে উচ্চ আদালতে রিট করেন বিটিআরসির উপপরিচালক সনজিব কুমার সিংহ, কাজী মো. আহসানুল হাবিব, জাকির হোসেন খাঁন, এস এম আফজাল রেজা, মো. আসিফ ওয়াহিদ ও মো. হাসিবুল কবির।
এর পরপরই মার্চের ১৬ তারিখে এক অফিস আদেশে কমিশনের মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন বিভাগ থেকে অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগে বদলি করা হয় উপপরিচালক জাকির হোসেন খাঁনকে। আর স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগে বদলি করা হয় উপপরিচালক কাজী মো. আহসানুল হাবিবকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিটকারী একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার মতো একটি বৈধ প্রক্রিয়ার পর এমন দ্রুত বদলি প্রশাসনের ভেতরে একটি ভীতি বা অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করছে। এতে ভবিষ্যতে অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে কর্মকর্তারা নিরুৎসাহিত হতে পারেন।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কর্মকর্তাদের বদলি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ।’