সড়ক অবরোধ, নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি

  • চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহরে সড়ক অবরোধ করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা।

  • নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি জামালপুর ও জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির।

বিদ্যুৎপ্রতীকী ছবি

দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে চট্টগ্রামে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জন–অসন্তোষ বাড়ায় বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েছে জামালপুর ও জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

এর আগে পল্লী বিদ‍্যুৎ সমিতি, ওজোপাডিকো ও নেসকোর গোপালগঞ্জ, নীলফামারী ও কুষ্টিয়া জেলার স্থানীয় কার্যালয় থেকে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে বিদ‍্যুৎ স্থাপনা ও কর্মীদের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরেও চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ পল্লী বিদ‍্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।

এদিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের এক নম্বর ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি বেড়ে লোডশেডিং আরও বেড়ে গেছে। এই ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো।

আরও পড়ুন

তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাস–সংকট চলছে। এতে রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। যানবাহনে গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে ফিলিং স্টেশনে।

এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সামিটের টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়। এতে সংকট আরও বাড়ে। অবশ্য গতকাল সন্ধ‍্যায় এলএনজি নিয়ে নতুন একটি জাহাজ এসেছে বঙ্গোপসাগরে। আজ শনিবার সকালের মধ‍্যে পাইপলাইনে গ‍্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করবে।

তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে গতকাল বিকেল চারটায় আবার বন্ধ হয়েছে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল। এটি রাত আটটা পর্যন্ত সরবরাহ শুরু করতে পারেনি। এতে সেই সময়ে গ‍্যাসের সংকট আরও তীব্র হয়েছিল।

আমদানি করা এলএনজি সরবরাহে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট। আর দেশীয় কোম্পানি সামিটের ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হলে দেশে গ্যাস–সংকট বাড়ে।

গ্যাসের জন্য সড়ক অবরোধ

গ্যাস না পেয়ে গতকাল সকাল সাতটার দিকে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘ সময় ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনের সামনে গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করেন অনেক চালক। তবে অপেক্ষার পরও গ্যাস না পেয়ে তাঁরা সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশের অনুরোধে একপর্যায়ে সড়ক থেকে সরে যান তাঁরা।

মোহাম্মদ হানিফ নামের এক চালক বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কখন গ্যাস পাব, কেউ বলছে না। এভাবে দিনের পর দিন বসে থাকলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব?’

ফসিল ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কিছু করার নেই।

আরও পড়ুন

অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শঙ্কা

লোডশেডিং নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ বাড়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সমিতির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের গড় চাহিদা ১৭০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রতিদিন ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গ্রাহকেরা ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের মুখে পড়ছেন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, লোডশেডিং নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে গ্রাহকেরা বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও অবনতি হয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সমিতির অফিস, উপকেন্দ্র ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে চার–পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় বলে গতকাল জানান ইসলামপুর উপজেলার নটাকান্দা এলাকার মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘৩০ মিনিট বিদ্যুৎ থাকে তো আবার কয়েক ঘণ্টা থাকে না।’

আরও পড়ুন

জয়পুরহাটে মিটার রিডারকে মারধর

‎‎লোডশেডিং নিয়ে উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়েছে জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

জেলায় বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৭২ মেগাওয়াট। বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ২৬ থেকে ২৮ মেগাওয়াট। তাই দিনে ও রাতে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি জন–অসন্তোষ বাড়ায় জেলার পাঁচটি উপজেলার ১০টি উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ করা হয়েছে সমিতির চিঠিতে।

এদিকে পাঁচবিবি উপজেলার শ্রীমন্তপুরে জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক মিটার রিডারকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি উদ্বেগ।

এ অবস্থায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা জোরদারে এ চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মাহবুবুল হক। তিনি বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে অর্ধেকেরও কম। এ নিয়ে আমাদের করার কিছু নেই।’

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম; প্রতিনিধি, জামালপুর ও জয়পুরহাট এবং প্রতিনিধি, সৈয়দপুর, নীলফামারী]