কারাবন্দী কামাল আহমেদ মজুমদারের কোমরের হাড় ভেঙেছে, যথাযথ চিকিৎসা দিতে ট্রাইব্যুনালের আদেশ
জুলাই অভ্যুত্থানের সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারের পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা দিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
আজ মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে কামাল আহমেদ মজুমদারের আইনজীবীর আবেদনের শুনানি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কামাল আহমেদ মজুমদারের পক্ষে আজ শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মো. সাহিদুর রহমান। তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, পড়ে গিয়ে কামাল আহমেদ মজুমদারের কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। তাঁর বয়সও অনেক বেশি। ডায়াবেটিসও রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে তাঁর অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর চিকিৎসা করতে পারছে না। এ কারণে তাঁরা এই আসামিকে বেসরকারি হাসপাতাল এভারকেয়ারে চিকিৎসা করানোর অনুমতি চান।
তখন প্রসিকিউশনের (রাষ্ট্রপক্ষ) পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো আসামির চিকিৎসার বিষয়ে তাঁদের আপত্তি থাকে না। তবে এভারকেয়ার হাসপাতালে আসামিকে রাখার ব্যবস্থা নেই। সে কারণে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসামির চিকিৎসা করানোর পক্ষে তাঁরা।
এ অবস্থায় আসামি কামাল আহমেদ মজুমদারকে যেন যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়, সে জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ্সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলার বিচারকাজ চলছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই এবং ৪ ও ৫ আগস্ট মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকা এবং পল্লবীর কিছু এলাকাতে ৫০ জনের বেশি নিরীহ–নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন। এ ছাড়া সেখানকার আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা ছিল।
ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর ওই বছরের অক্টোবরে রাজধানীর গুলশান থেকে কামাল আহমেদ মজুমদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন থেকে কারাগারে বন্দী আছেন তিনি।