মানি লন্ডারিং আইনে ২৭ ধরনের অপরাধ

২৭ ধরনের অপরাধকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব অপরাধের মধ্য রয়েছে দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন, মুদ্রা জাল করা, দলিল–দস্তাবেজ জাল করা, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, জালিয়াতি, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা, অবৈধ মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবসা, চোরাই ও অন্যান্য দ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা, অপহরণ, অবৈধভাবে আটক রাখা, খুন ও মারাত্মক শারীরিক ক্ষতি, নারী ও শিশু পাচার, চোরাকারবারি, দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার, চুরি–ডাকাতি–দস্যুতা–জলদস্যুতা বা বিমানে দস্যুতা।

মানি লন্ডারিং অপরাধের মধ্যে আরও রয়েছে মানব পাচারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন, যৌতুকের অর্থ, চোরাচালান ও শুল্কসংক্রান্ত অপরাধ, করসংক্রান্ত অপরাধ, মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন, ভেজাল বা স্বত্ব লঙ্ঘন করে পণ্য উৎপাদন, পরিবেশগত অপরাধ, যৌন নিপীড়ন, পুঁজিবাজার–সম্পর্কিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের আগে তথ্য কাজে লাগিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায় এবং সংঘবদ্ধ কোনো অপরাধী দলে অংশ নেওয়া।

আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে দুর্নীতি ও ঘুষসংক্রান্ত মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ তদন্ত করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর বাইরে ২৫টি অপরাধ তদন্ত করতে পারবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডি ছাড়াও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কাস্টমস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন তদন্ত করার ক্ষমতা রাখে।

মানি লন্ডারিং আইনে করা মামলার বিচার করার এখতিয়ার কেবল বিশেষ জজ আদালতের। মানি লন্ডারিং–সংক্রান্ত উল্লিখিত ২৭ ধরনের অপরাধ করা কিংবা করার চেষ্টা, সহায়তা করা কিংবা ষড়যন্ত্র করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর, সর্বনিম্ন ৩ বছর। আর এভাবে অর্জিত সম্পদের দ্বিগুণ কিংবা ১০ লাখ টাকা জরিমানা করতে পারবেন আদালত। মানি লন্ডারিং অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করবেন আদালত।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ১০ ধারায় বলা হয়েছে, ছয় মাসের মধ্যে তদন্তকাজ শেষ করবেন তদন্ত কর্মকর্তা। এই আইনের অপরাধ আমলযোগ্য, আপসযোগ্য নয়। একই সঙ্গে এই আইনের অপরাধ অজামিনযোগ্য।