২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল বঙ্গোপসাগরে এফভি মোহছেন আউলিয়া নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার থেকে ২০ লাখ ইয়াবা বড়িসহ আটজনকে আটক করে র‍্যাব। ঘটনায় পরদিন নগরের পতেঙ্গা থানায় মামলা করে র‍্যাব। তদন্ত শেষে পরের বছরের এপ্রিলে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে ১৭ জনকে আসামি করা হয়। ২০২০ সালের ১০ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার শুরু হয়। আসামিদের ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আজ রায় দেন।

মামলার আসামিদের তালিকায় ট্রলারমালিকের নাম না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করে রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, মাছ ধরার ট্রলারটি থেকে ২০ লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার হয়েছে। এ অপরাধের দায় ট্রলারটির মালিক এড়াতে পারেন না।

নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত বলেছেন, জব্দ করা কাগজপত্রে সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্রসহ সব জায়গায় ট্রলারের মালিকের নাম নেজাম উদ্দিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মামলার তিনজন কর্মকর্তার কেউ মাদক বহনকারী ট্রলারের মালিককে নির্ণয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি, কিংবা অভিযোগপত্রে নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। ২০ লাখ ইয়াবা বড়ি ট্রলারমালিকের জ্ঞানের বাইরে পরিবহন করার কোনো সুযোগ নেই বলে আদালত মনে করেন।

মামলার তিনজন তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেন, চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) গাজী ফৌজুল আজিম, র‍্যাব-৭–এর সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন ও পিবিআই চট্টগ্রামের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মঈন উদ্দিন।

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, ট্রলারমালিক নেজাম উদ্দিনের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তারা অভিযোগপত্রে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। এটা তাঁদের দায়িত্বে মারাত্মক অবহেলা ও গাফিলতি বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের এ অবহেলা অগ্রহণযোগ্য।

তদন্ত প্রতিবেদনে সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে না পারায় মামলার ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া কথা উল্লেখ করে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, তদন্তকারী কর্মকর্তারা এই আসামিদের বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো অকাট্য সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে পারেননি।  

পর্যবেক্ষণে বিচারক শরীফুল আলম ভুঁঞা বলেন, তদন্তকারী তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি পুলিশের আইজিপির ওপর ছেড়ে দেওয়া হলো।

পর্যবেক্ষণে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিচারক বলেন, মাদক, খুন, ডাকাতিসহ গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য মামলার সুষ্ঠুভাবে তদন্তের জন্য পুলিশ বিভাগে কর্মরত উপপরিদর্শক পদমর্যাদার সবার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত। এ ছাড়া সীমাবদ্ধতা থাকার পরও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তদন্তকাজে ব্যবহৃত হয় এমন আধুনিক সরঞ্জামের জোগান দিতে হবে।