কাতার ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিভিন্ন দলের জার্সির সঙ্গে মিল রেখে এ লুঙ্গি বাজারে এনেছে মেসার্স হেলাল অ্যান্ড ব্রাদার্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আমানত শাহ লুঙ্গি। এ লুঙ্গির নাম দিয়েছে তারা ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ-ফ্যান লুঙ্গি। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী অন্তর আহমেদ জানান, তাঁদের পরিচালক রেজাউল করিমের নির্দেশনায় পরীক্ষামূলকভাবে নিজস্ব ডিজাইনার কিছু নমুনা তৈরি করে। লুঙ্গিটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা হুবহু বিভিন্ন দলের পতাকার বা জার্সির মতো নয়। বিশ্বকাপ শেষেও যাতে এসব লুঙ্গি পরা যায়, তার জন্য এটি করা হয়েছে।

অন্তর আহমেদ জানান, শুরুতে কয়েক শ লুঙ্গি তৈরি করা হয়েছে। এরপর কয়েকজন ক্রেতার কাছ থেকে ভালো সাড়া পান। এরপর প্রথম দফায় ৫ হাজার লুঙ্গি তৈরি করে নরসিংদীর বাবুরহাটে তোলা হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই তা বিক্রি হয়ে যায়। এরপর আরও ১০ হাজার লুঙ্গি তৈরি করা হয়। বাজারে সাড়া পেয়ে এখন নতুন করে আবারও লুঙ্গি তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, নরসিংদীর বাবুরহাট থেকে মূলত দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা এ লুঙ্গি কিনেছেন। পরে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে খুচরায় বিক্রি করা হবে। বিশ্বকাপ ফুটবলে ৩২টি দেশ অংশ নিলেও লুঙ্গি তৈরি করা হয়েছে পাঁচটি দেশের জার্সির সঙ্গে মিল রেখে। এগুলো হলো আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন, ফ্রান্স ও জার্মানি।

বিশেষ এ লুঙ্গির প্রতিটির দাম ৩৭০ টাকা। সবাই যাতে এ লুঙ্গি কেনার সুযোগ পান, সেই বিবেচনায় দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা হয়েছে। এ লুঙ্গি তৈরিতে ফেব্রিকস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে লিনেন।

এর মধ্যে বেশি বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনার জার্সির সঙ্গে মিল রেখে তৈরি লুঙ্গি। এরপর ব্রাজিল ও জার্মানির জার্সির রঙে তৈরি লুঙ্গি। তবে অনেকেই পর্তুগালের জার্সির সঙ্গে মিল রেখে লুঙ্গি চাইছেন। কিন্তু প্রথমবারে সব দলের জার্সির সঙ্গে মিল রেখে লুঙ্গি তৈরি সম্ভব হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০টির বেশি দেশে সব সময়ই লুঙ্গি রপ্তানি করে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে তৈরি হওয়া বিশেষ নকশার লুঙ্গির কিনতে এরই মধ্যে কাতার, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির কাছ থেকেও ক্রয়াদেশ পাওয়া গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশেষ এ লুঙ্গির প্রতিটির দাম ৩৭০ টাকা। সবাই যাতে এ লুঙ্গি কেনার সুযোগ পান, সেই বিবেচনায় দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা হয়েছে। এ লুঙ্গি তৈরিতে ফেব্রিকস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে লিনেন। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কোনো খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র নেই। প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজ ও অনলাইন সাইটে গিয়ে গ্রাহকেরা কিনতে পারছেন। ঢাকায় তিন দিনের মধ্যে আর ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় পাঁচ দিনের মধ্যে এ লুঙ্গি সরবরাহ করা হয়।

বিশেষ নকশার এই লুঙ্গি অনলাইন পেজ থেকে কিনেছেন ৩২ বছর বয়সী নাহিদ আরিফিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্বকাপ এলে জার্সির বিষয়টি প্রথমে মাথায় আসে। কিন্তু লুঙ্গিকেও যে বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তা দেখে তিনি অভিভূত। প্রথমেই তাঁর বাবার কথা মাথায় আসে। তিনি লুঙ্গি পরেন। পরে অবশ্য পাঁচ সদস্যের পরিবারের সবার জন্যই লুঙ্গি কেনেন তিনি। নাহিদ আরিফিন নিজে জার্মানির সমর্থক। তাই তিনি তাঁর পছন্দের দলের জার্সির সঙ্গে মিল রেখে লুঙ্গি কিনেছেন। অন্য সময় না পরলেও এই লুঙ্গি পরে আরামদায়ক মনে হয়েছে আরিফিনের কাছে।

নরসিংদী বাজারের খুচরা লুঙ্গি ব্যবসায়ী লোকনাথ সাহা জানান, ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা সামনে রেখে আমানত শাহ এ লুঙ্গি বাজারে এনেছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এসব লুঙ্গির ছবি দেখে অনেক ক্রেতা দোকানে দোকানে ঘুরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার লুঙির খোঁজ করছেন। তবে মাত্রই বাজারে আসায় এসব লুঙ্গির বিক্রিবাট্টাও এখনো সেভাবে শুরু হয়নি। তবে শিগগিরই এসব লুঙ্গি কেনার হিড়িক পড়বে বলে ধারণা তাঁর।