জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালনে দেশব্যাপী কর্মসূচি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। সেদিন বিজয়ের আনন্দে জাতীয় সংসদ ভবনে জড়ো হন বিপুল মানুষফাইল ছবি: বাসস

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ ৫ আগস্ট (বুধবার) দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন। ৫ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে সংবাদপত্রে বিশেষ নিবন্ধ-সাহিত্য-সাময়িকী ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

৫ আগস্ট সকাল ৯টায় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করার কথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

এদিন বেলা ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

এর আগে গত ৩০ জুলাই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তথ্য ভবনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দেশের সব জেলায় জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে বলে সরকারের তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে।

ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশনের মিনিপোলগুলোতে জুলাই আন্দোলনের ওপর বস্তুনিষ্ঠ, নৈর্ব্যক্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে।

এ ছাড়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি বেতার ও টিভি চ্যানেলে, এফএম ও কমিউনিটি রেডিওতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–সম্পর্কিত আলোচনা অনুষ্ঠানসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হবে।

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বাদ জোহর বা সুবিধাজনক সময়ে সারা দেশে বিশেষ মোনাজাত বা প্রার্থনার আয়োজন করবে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন পতাকায় সাজানো হবে। জুলাই স্মৃতিস্তম্ভগুলো আলোকসজ্জা করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হবে।

দিনটিতে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার স্বায়ত্তশাসিত জাদুঘরগুলো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনা টিকিটে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিনোদনমূলক স্থান শিশুদের জন্য সকাল-সন্ধ্যা উন্মুক্ত রাখা হবে। বিনা টিকিটে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, ডে–কেয়ার, শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।