তারেক-জুবাইদার বিরুদ্ধে রায় সরকারের ইশারায়: সাদা দল
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের এক মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা সরকারের ইশারায় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
তারেক ও জুবাইদার বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাদা দল। তারা বলেছে, ‘নিজেদের অশুভ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য পবিত্র বিচারাঙ্গনকে আর কলুষিত না করার জন্য আমরা সরকারকে অনুরোধ জানাই।’
গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন সাদা দলের আহ্বায়ক মো. লুৎফর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান ও আবদুস সালাম। গতকাল বিকেলে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালে হওয়া এক মামলার রায়ে তারেক রহমানকে ৯ বছর ও জুবাইদা রহমানকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. আছাদুজ্জামান। এই রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে বিবৃতি পাঠায় সাদা দল।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা মিথ্যা ও সাজানো দুর্নীতির মামলার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই রায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এটি প্রত্যাখ্যান করছি। ২০০৭ সালে এক-এগারোর জরুরি সরকারের সময় বিএনপিকে ধ্বংস এবং দেশকে বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে দুদক তথাকথিত দুর্নীতির মামলা করে।
দীর্ঘ ১৬ বছর পর হঠাৎ তড়িঘড়ি করে এই মামলার শুনানির (১৬ কার্যদিবসে ৪২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ) পর দ্রুত রায় দেওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বর্তমান অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিস্ট সরকারের ইশারাতেই এই রায় হয়েছে। বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপিকে রাজনৈতিক কৌশলে মোকাবিলার পরিবর্তে শুরু থেকেই আইন-আদালতকে ব্যবহার করে আসছে। তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে দেওয়া এই রায় সেই পুরোনো কৌশলেরই ধারাবাহিকতা।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিস্ট সরকারের পদত্যাগ এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিএনপির নেতৃত্বে চলমান গণ–আন্দোলনে সরকার ভীত ও অস্বস্তিতে পড়েছে।
দেশে ফিরে এসে জুবাইদা রহমান চলমান আন্দোলনে যোগ দিতে পারেন এবং সেটি হলে আন্দোলন নতুন গতিবেগ লাভ করবে। ফলে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের মতো প্রহসনের নির্বাচন আয়োজন করে ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন পূরণ হবে না—এই আশঙ্কায় সরকার ভীত হয়ে পড়েছে।
তদুপরি আমেরিকার ভিসা নীতি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনের জন্য অব্যাহত চাপ বৃদ্ধিতে দিশাহারা হয়ে সরকার নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে ঘোষিত মামলার রায়টি এই অপকৌশলেরই অংশ।’
সাদা দলের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই অশুভ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই খালেদা জিয়াকেও প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে সাজা দিয়ে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। এবারের রায়ের মাধ্যমে জুবাইদা রহমানকেও নির্বাচনে অযোগ্য করার অপকৌশল গ্রহণ করা হলো।
এসব অপকৌশলের মাধ্যমে সাময়িকভাবে হয়তো সরকার সুবিধা নিতে পারবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্য ও ন্যায়েরই বিজয় হবে। খালেদা জিয়া এবং জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে যে অন্যায়-অবিচার করা হচ্ছে এর পরিণাম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একদিন ভোগ করতে হবে।