সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার বিষয়টি ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ১২ মেছবি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো উদ্যোগের কথা বাংলাদেশকে জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘নোম্যান্স ল্যান্ড’ (শূন্যরেখা) বজায় রেখে ভারত নিজেদের সীমানার ভেতর কোনো ব্যবস্থা নিতে চাইলে সেটি কূটনৈতিকভাবে আলোচনা হবে।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার হাওড়ায় রাজ্য সচিবালয়ে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দেন বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেবে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির নেতৃত্বাধীন নতুন রাজ্য সরকার। এ জন্য মুখ্যসচিব এবং ভূমি ও রাজস্বসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভারতের কোনো অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন বা তার ফলাফল সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তিনি বলেন, ‘কোনো অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনের পর কোনো বিজয়ী দল বক্তব্য দিলে সেটার জবাব আমরা সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে দিই না। আমাদের জানাতে হবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে যে বাংলাদেশ বর্ডারে বা ইন্ডিয়ান বর্ডারে তারা কিছু করতে চায় কি না। সেটা ডিপ্লোমেটিক চ্যানেলে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তারা কথা বলবে।’ এ ধরনের বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কী বলছে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হচ্ছে সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের ‘পুশইন’ যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা। এ জন্য বিজিবিকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সতর্ক আছি। সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার দিকেই আমাদের নজর রয়েছে।’

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও মুসলমানদের ওপর হামলার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো কিছু ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এখনো আমাদের নজরে এমন কোনো ঘটনা আসেনি যে সেখানে নির্যাতন শুরু হয়েছে।’

তথ্য প্রমাণ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভা হয়। ১২ মে
ছবি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

চাঁদাবাজির কারণে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এমন বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথায় চাঁদাবাজি বেড়েছে, তালিকা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত ৩০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান চলছে। মাদক, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চিহ্নিত আসামি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনের অভিযানের তথ্য পুলিশ সদর দপ্তর সংগ্রহ করছে।

ঈদের আগে ও পরে বিশেষ মনিটরিং সেল চালু থাকবে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঈদের আগে ও পরে ৭ দিন করে মোট ১৪ দিন পুলিশ সদর দপ্তরে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল চালু থাকবে। এ সময় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার হটলাইন সক্রিয় থাকবে।

ঈদের আগে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও শ্রমিক ফেডারেশনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কিছু অসুস্থ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বন্ধ কারখানার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ট্যানারিমালিকদের সঙ্গে বৈঠক করবে। পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণে সরকার বিনা মূল্যে লবণ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া ছাড়ানোর দুই ঘণ্টার মধ্যে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের বিষয়ে দেশজুড়ে প্রচার চালানো হবে। ইসলামি ফাউন্ডেশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মসজিদের ইমামদের দিয়ে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চালানো হবে। চামড়া যাতে পাচার না হয়, সে বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টসমালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।