বই কেনার ভালো সময় এখন
‘বইমেলায় এখন পাঠক চেনা যায়। আগের মেলাগুলোয় মানুষ থাকত অনেক। কিন্তু তাঁদের হাতে বইয়ের ব্যাগ থাকত কম। ফলে পাঠক চেনা যেত না। এখন যাঁরা মেলায় আসছেন, তাঁরা মূলত বই কিনতেই আসছেন। আপাত দেখায় লোকসমাগম কম মনে হচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ লোকের হাতেই একটি–দুটি বইয়ের ব্যাগ দেখা যাচ্ছে। এটা খুব ভালো দিক।’ এ মন্তব্য করলেন অথই দাস, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায়।
অথই দাস বই নিয়েই নানা রকম কাজ করেন। ‘বুক অ্যান্ড মোর উইথ অথই’ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্ল্যাটফর্মও আছে। অথই বলেন, বেশ কিছু ভালো বই প্রকাশিত হয়েছে এবার মেলায়। কিছু বই সংগ্রহ করেছেন তিনি। তার মধ্যে ছিল প্রথমা প্রকাশনের রুমিন ফারহানার সংসদের দিনগুলি, বেলাল চৌধুরীর আমার কলকাতা, প্রিমিয়াম পাবলিকেশনস থেকে প্রকাশিত তরুণ থ্রিলার লেখক হাসান ইশরাকের মিরপুর হইতে সাবধান ইত্যাদি।
এবার মেলায় দ্বিতীয় দিনের মতো এসেছিলেন ব্যবসায়ী জুবায়ের ইউসুফ। থাকেন উত্তরায়। মেট্রোরেলের কল্যাণে বইমেলায় আসা এখন অনেক সহজ। যাতায়াতের ভোগান্তি কম। গ্রন্থানুরাগী এই প্রবীণ ব্যবসায়ী জানালেন, প্রতিবছরই তিনি বইমেলায় একাধিকবার আসেন। ডানে-বাঁয়ে স্টলগুলোয় সাজানো অনেক রকম বইয়ের মাঝখান দিয়ে চলতেও একটা আলাদা আনন্দ আছে। একটা নেশার মতো। ভ্রমণের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা আছে জুবায়ের ইউসুফের। সে কারণে ভ্রমণের বই সংগ্রহ করেন। গতকাল অনুপ্রাণন থেকে কিনেছেন এলিজা বিনতে এলাহীর ভ্রমণগদ্য রোড টু পামির। জুবায়ের ইউসুফ বললেন, বইমেলার ঢিলেঢালা শান্ত পরিবেশটা কিন্তু একদিক থেকে ভালোই। যাঁরা সত্যিকার অর্থেই ভালো বই কিনতে চান, তাঁরা মনোযোগ দিয়ে খোঁজাখুঁজি করতে পারেন।
বইমেলার ঢিলেঢালা শান্ত পরিবেশটা ভালোই। যাঁরা ভালো বই কিনতে চান, তাঁরা মনোযোগ দিয়ে খোঁজাখুঁজি করতে পারেন।
ঈদের আগে মেলার পরিবেশ–পরিস্থিতি যে খুব বেশি জমজমাট হবে না, এমন ভাবনা আগে থেকেই ছিল বলে জানালেন টাঙ্গনের তরুণ প্রকাশক অজয় কুমার রায়। সে কারণে বেচাকেনা নিয়ে খুব বেশি নিরাশ হননি তিনি। টাঙ্গন থেকে এবার এসেছে শামসুল হুদা সম্পাদিত ইলা মিত্র জন্মশতবর্ষ নামের স্মারকগ্রন্থ।
প্রথমা প্রকাশনের স্টলে গতকাল নতুন এসেছে ডিউক জনের কিশোর হরর নওয়াব বাড়ির অভিশাপ। স্টলের ব্যবস্থাপক সোহেল উদ্দিন জানালেন, মেলায় এখন যাঁরা আসছেন, তাঁদের বেশির ভাগই কেনাকাটা করছেন। সে কারণে যাঁদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশনা আছে, তাঁদের বিক্রি মন্দ নয়। প্রথমায় গতকাল মির্জা গালিবের বইয়ের বেশ চাহিদা ছিল। সাদাত হোসেন মান্টোর লেখা মির্জা গালিব, জাভেদ হুসেনের অনুবাদে মির্জা গালিবের গজল কিনেছেন ক্রেতারা। এ ছাড়া আকবর আলি খানের অবাক বাংলাদেশ:বিচিত্র ছলনাজালে রাজনীতি, আবুল মনসুর আহমদের সরস গল্পগ্রন্থ আয়না, আলতাফ পারভেজ অনূদিত গ্রামসির রাষ্ট্রচিন্তা, জহির রায়হানের অগ্রন্থিত গল্প কয়েকটি নদী ও একটি সমুদ্র ভালো বিক্রি হয়েছে।
নতুন বই
গতকাল বাংলা একাডেমি তথ্যকেন্দ্রে নতুন বইয়ের নাম জমা পড়েছে ১৬৩টি। এবারের নতুন বইয়ের মধ্যে আগামী এনেছে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর বিশিষ্টজনদের নিয়ে স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থ তাঁদের স্মৃতি ও সৃষ্টি, অন্যপ্রকাশ এনেছে সরকার আমিনের কবিতা ঘোড়া হাসে, অনিন্দ্য এনেছে ইসমাইল সাদীর প্রবন্ধ বাংলা কবিতা উপলব্ধির উন্মোচন, শব্দ এনেছে আহাম্মদ আলীর সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ: প্রামাণ্য জীবনী, স্বপ্ন ’৭১ এনেছে এস এম সারওয়ার মোর্শেদের ইতিহাসবিষয়ক গ্রন্থ চৌষট্টির সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বাংলা একাডেমি এনেছে মোহাম্মদ আজম সম্পাদিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছড়া, পাঞ্জেরী এনেছে কিযী তাহ্নিনের গল্প মসলার কৌটা, বাতিঘর এনেছে মোহাম্মাদ ওয়াহিদ হোসেন অনূদিত মিচ অ্যালবমের মোরির সঙ্গে সেই সব মঙ্গলবার, বিদ্যাপ্রকাশ এনেছে মোহিত কামালের গল্প ফ্ল্যাশফিকশন পঁচিশ তারার ঝলক, ঐতিহ্য এনেছে হামিদ রায়হানের প্রবন্ধ কালার পলিটিক্স।
কার্ল মার্ক্সের পুঁজি
কার্ল মার্ক্সের মৃত্যুর দুই বছর পর পুঁজি দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৮৫ সালে। মার্ক্স এই খণ্ড পুরো গুছিয়ে যেতে পারেননি। ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস এই পাণ্ডুলিপি গুছিয়ে সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন। এর ইংরেজি অনুবাদ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে। সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রথম ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে। এই সংস্করণের ভিত্তিতেই এই পাঠ পর্যালোচনা-অনুবাদ।
পুঁজি: প্রথম খণ্ডের উপশিরোনাম ছিল ‘পুঁজি উৎপাদনের প্রক্রিয়া’, দ্বিতীয় খণ্ডের উপশিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘পুঁজি সঞ্চালনের প্রক্রিয়া’। প্রথম খণ্ডে মার্ক্সের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত ছিল কারখানা ও কর্মস্থলে। আর দ্বিতীয় খণ্ডে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে ‘বাজারে’। বর্তমান গ্রন্থ অনুবাদ, সারসংক্ষেপ ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে বাংলা ভাষায় পুঁজি দ্বিতীয় খণ্ড উপস্থিত করছে। বইটি এনেছে প্রথমা প্রকাশন।
আনু মুহাম্মদ চার দশক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগেও পড়িয়েছেন এক দশকের বেশি। ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কানাডার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং স্কলার। শিক্ষকতা করেছেন কানাডার উইনিপেগ বিশ্ববিদ্যালয়ে। দায়িত্ব পালন করেছেন ‘বাঙলাদেশ লেখক শিবির’-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। নেতৃত্ব দিয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে।