জাতীয় কবিতা পরিষদের ৬২তম কবিতাপাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

জাতীয় কবিতা পরিষদের ৬২তম কবিতাপাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৩ জানুয়ারিছবি: সংগৃহীত

জাতীয় কবিতা পরিষদের ৬২তম কবিতাপাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির মুনির চৌধুরী মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় কবি ইমরান মাহফুজ ‘কবিতায় বিল্পব, বিপ্লবের কবিতা’ শীর্ষক আলোচনায় বলেন, একজন কবিকে দিয়ে আর কিছু না হোক বোমাবাজি হয় না, দখলদারি হয় না। কবিতা দিয়ে যিনি সম্পদ গড়েছেন, তাঁর কবিতা হৃদয় ছুঁয়ে যায় না। আর যিনি সম্পদের পাহাড় গড়েন, তাঁর কবিতা হৃদয় থেকে হারিয়ে যায়।

ইমরান মাহফুজ আরও বলেন, নব্বইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজপথে কবি মোহন রায়হান ও রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতা সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়েছে। ‘সাহসী মানুষ চাই’ কবিতায় মোহন রায়হান সমাজের ভীরু, দালাল বুদ্ধিজীবী ও সুবিধাভোগীদের প্রতি তীব্র ঘৃণা ছুড়েছেন। তবে চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থান থেকে একজন কবিও উঠে আসেননি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান বলেন, আর দুই সপ্তাহ পরে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় কবিতা উৎসব। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সৃষ্ট জাতীয় কবিতা পরিষদ মাঝের এক দশক বেহাত হয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রতি নতজানু ভূমিকা পালন করেছে। কবিদের এই দলদাস ভূমিকা সময়েরই প্রতিফলন ছিল। ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র টিকে ছিল কবিদের এই সমবেত দলদাসের ভূমিকার কারণে। কবিতা পরিষদ স্বাধীনতা ব্যবসা ও ধর্ম ব্যবসার বিরুদ্ধে লড়াই সদা জাগ্রত থাকবে।

মোহন রায়হান আরও বলেন, হাসিনা সরকারের আমলে ‘একান্ত অনুভূতি’ কবিতা লেখার জন্য কবি কামাল চৌধুরী তাঁকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘তুই কি আবার জেলে যেতে চাস?’ ভালো হয়ে যাওয়ার নসিহত দিয়ে তিনি ফোন রেখে দিয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন শ্যামল জাকারিয়া, আসাদ কাজল, মাশরুর শাকিলসহ আরও অনেকে। সংগীত পরিবেশন করেন বরেণ্য শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি শিমুল পারভীন ও কবি নাহিদ হাসান।