এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ রোববার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। শীত মৌসুম সামনে রেখে দেশের বেশির ভাগ জেলায় অবৈধ ইটভাটাগুলো কার্যক্রম শুরু করছে এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়েছে—গণমাধ্যমে আসা এমন প্রতিবেদন যুক্ত করে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে গত বৃহস্পতিবার ওই রিট করা হয়। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

আদেশের বিষয়টি জানিয়ে মনজিল মোরসেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‌‘অবৈধ ইটভাটাগুলো যাতে কার্যক্রম চালাতে না পারে ও ইটভাটায় আইনে নিষিদ্ধ কাঠের ব্যবহার যাতে না হয়, সে জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক ও বিভাগীয় কমিশনারদের এক সপ্তাহের মধ্যে নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় তদারকি দল গঠন করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বিবাদীদের বলা হয়েছে।’

রুলে সব জেলার অবৈধ ইটভাটা ও জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ ইট প্রস্তুত, ভাটা স্থাপন ও ভাটায় কাঠ ব্যবহার বন্ধে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। ২১ বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।  

রিট আবেদনকারী পক্ষ জানায়, ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুসারে লাইসেন্স ছাড়া কোনো ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করা যায় না। এমনকি জ্বালানি হিসেবে ইটভাটায় কাঠের ব্যবহারও নিষিদ্ধ। অথচ দেশের বেশির ভাগ জেলায় শীত মৌসুমকে সামনে রেখে অবৈধ ইটভাটাগুলো কার্যক্রম শুরু করছে এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এসেছে। কাঠ ব্যবহারের কারণে পরিবেশের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে; যে কারণে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হয়।