বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
রিফাত রশিদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অনুদানের তথ্য গোপনের অভিযোগ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামের বিরুদ্ধে অনুদানের প্রায় এক কোটি টাকার তথ্য গোপন করার অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির কয়েকজন নেতা। সংগঠনের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রিফাত রশিদ একাই নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহীন আয়েশা, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাশরাফি ও সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক আতিক শাহরিয়ার বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিনথিয়া জাহীন আয়েশা বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তরফ থেকে গণভোটের পক্ষে দেশব্যাপী প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রচারের অর্থায়ন কীভাবে হবে, এমন প্রশ্নে তখন বলা হয়, ব্যক্তিগত খরচে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে ফান্ড (তহবিল) গ্রহণ এবং তা কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, সেটা তাঁদের কাছে গোপন রাখা হয়েছে।
সিনথিয়া জাহীন বলেন, ‘গত বছর ২৫ জুন অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে আমরা গণতান্ত্রিকভাবে একটি নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটি পাই। কিন্তু আমাদেরকে সাংগঠনিক দায়িত্ব ও কার্যক্রম পালনে ধারাবাহিকভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রিফাত রশিদ একা নিয়েছেন, যা সংগঠনের গণতান্ত্রিক চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত অবমূল্যায়ন নয়, এটি একটি সংগঠনের ভেতরের প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের নগ্নতা প্রকাশ করেছে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রীয় সংগঠনের দায়িত্বশীল হিসেবে সংগঠনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, কর্মসূচি, আয়-ব্যয় জানার অধিকার এবং সবাইকে জানানোর অধিকার আমাদের আছে। আমরা বারবার জবাবদিহি চেয়েছি কিন্তু প্রতিবারই বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে কিংবা অস্বীকার করা হয়েছে। উল্টো আমাদেরকে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে যে আমরা সাংগঠনিক স্ট্রাকচারকে ভেঙে দিতে চাই, আমরা সংগঠনের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে চাই।’
সিনথিয়া জাহীন আরও বলেন, ‘সর্বশেষ ১২ এপ্রিল কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিংয়ে তাঁরা স্বীকার করতে বাধ্য হন, একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তাঁরা কমপক্ষে এক কোটি টাকা সংগ্রহ করেছেন। এই অর্থের স্বচ্ছতার হিসাব আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। কেন একজন নির্বাচিত মুখপাত্র হয়েও আমাকে, আমাদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে, সম্মিলিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যসচিবকে, আহত সেল সম্পাদকসহ আরও বেশ কয়েকজনকে তাঁরা এ ধরনের তথ্য সরবরাহ থেকে বিরত রেখেছেন?’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ ও মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামকে একাধিকবার খুদে বার্তা ও মুঠোফোনে ফোন করে সাড়া পাওয়া যায়নি।