সুপ্রিম কোর্টে মামলা শুনানিতে সাংবাদিকদের নির্বিঘ্নে প্রবেশাধিকার চেয়ে চিঠি

সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে মামলা শুনানিতে সাংবাদিকদের নির্বিঘ্নে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে প্রধান বিচারপতির বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আইন, বিচার ও মানবাধিকার–বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) পক্ষ থেকে আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে এ চিঠি দেওয়া হয়।

এর আগে ১৯ জানুয়ারি রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে ল রিপোর্টার্স ফোরামের পক্ষ থেকে আবেদন দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, তবে বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে মামলা শুনানিতে সাংবাদিকদের নির্বিঘ্নে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।

চিঠিতে বলা হয়, সাংবিধানিক, জনস্বার্থ ও জনগুরুত্বপূর্ণ মামলা সর্বোচ্চ আদালতে শুনানি ও নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। সংবিধানের রক্ষক হিসেবে নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষাসংক্রান্ত মামলায় সর্বোচ্চ আদালত অভিমত, পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। জনগুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ এসব সিদ্ধান্ত ও তথ্য সম্পর্কে বিচার প্রার্থীসহ সাধারণ মানুষের জানার আগ্রহ রয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, এ কারণে আদালত সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিট (সংবাদ ক্ষেত্র) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বনামধন্য গণমাধ্যমের কর্মীরা সুপ্রিম কোর্টে সংবাদ সংগ্রহের জন্য আসেন। আদালতে উপস্থিত থেকে জনগণকে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য জানানোর ক্ষেত্রে সাংবাদিকেরা দায়বদ্ধ।

চিঠিতে ল রিপোর্টার্স ফোরাম বলেছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫২ ধারা ও সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে উন্মুক্ত আদালতে বিচারের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট রুলসের আদেশ ১০–এ উন্মুক্ত আদালতে রায় ও আদেশ প্রদানের কথা উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া প্রকাশ্য আদালতে রায় ও আদেশ প্রদানে অধস্তন আদালতের প্রতি ২০২১ সালে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে।

সাংবাদিকেরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে আসছেন উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতে ও পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী ও পঞ্চদশ সংশোধনী, ২১ আগস্ট গ্রেনেডে হামলা এবং একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলার সংবাদ প্রকাশ্য আদালতে উপস্থিত থেকে গণমাধ্যমকর্মীরা সংগ্রহ করেছেন, যা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চলমান।

চিঠিতে বলা হয়, ৭ জানুয়ারি থেকে আপিল বিভাগসহ হাইকোর্ট বিভাগের কোনো কোনো বিচারকক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।…এতে মামলার শুনানি ও সিদ্ধান্তের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।