শেখ হাসিনাসহ ৬ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ
২০১৬ সালে ঢাকার কল্যাণপুরে জাহাজ বিল্ডিং ভবনে ৯ তরুণকে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ছয় আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ রোববার এই আদেশ দেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এই মামলার মোট আসামি আটজন। এর মধ্যে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
অপর ছয় আসামি পলাতক। তাঁরা হলেন শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় ও সাবেক যুগ্ম কমিশনার মো. আবদুল বাতেন। পলাতক এই আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
পলাতক এই ছয় আসামিকে হাজির হতে দুটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় ২৫ ফেব্রুয়ারি। তারপরও তাঁরা হাজির হননি বলে ট্রাইব্যুনালকে জানায় প্রসিকিউশন। পরে এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির জন্য আগামী ৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশন বলছে, ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই ঢাকার কল্যাণপুরে জাহাজ বিল্ডিং ভবনে ৯ যুবককে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার শিকার ব্যক্তিরা হলেন মোতালেব ওরফে আবদুল্লাহ, রায়হান ওরফে রায়হানুল কবির ওরফে তারেক, মতিউর রহমান, মো. জুবায়ের হোসেন, সেজাদ রউফ ওরফে অর্ক, তাজউল হক ওরফে রাশিক, আবু হাকিম ওরফে নাঈম, আকিফুজ্জামান খান ও অজ্ঞাতনামা একজন। এ ছাড়া রাকিবুল হাসান ওরফে রিগান নামে আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।