রিমান্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন—সোহেল শাহরিয়ার ও মারুফ রেজা। তাঁদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি চায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে আসামিরা জড়িত বলে আদালতে লিখিতভাবে জানিয়েছে পুলিশ। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত প্রত্যেককে দুই দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন।

এ ছাড়া এই মামলায় গতকাল রোববার আরও চার আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। চার আসামি হলেন—মাহাবুবুর রহমান টিটু, জুবের আলম খান রবিন, আরিফুর রহমান সোহেল ও খাইরুল ইসলাম।

এই হত্যা মামলায় ‘শুটার’ মাসুম ওরফে মোহাম্মদ আকাশ এবং হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী সুমন শিকদার ওরফে মুসাসহ এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিবির কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে টিটু পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের অনুসারী। রবিন ও সোহেল মতিঝিল এলাকার একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অনুসারী। জাহিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, জাহিদুল ইসলাম হত্যা মামলার আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ আসামি হচ্ছেন মোল্লা শামীম। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত ২৪ মার্চ রাতে শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ এলাকায় এলোপাতাড়ি গুলিতে মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম নিহত হন। সে সময় ঘটনাস্থলে রিকশায় বসে থাকা কলেজছাত্রী সামিয়া আফরিন ওরফে প্রীতিও (২২) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে জাহিদুলকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে দেশ থেকে পালিয়ে যান সুমন সিকদার। গত ৯ জুন ওমান থেকে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনে পুলিশ। পরে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, তিন থেকে চার মাস আগে জাহিদুল হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিকাশ-প্রকাশ গ্রুপের অন্যতম খুনি সুমন সিকদারের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করেন মতিঝিল ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক। এর মধ্যে প্রথমে সুমন সিকদারকে ৯ লাখ টাকা দেন তিনি। ১২ মার্চ টাকা নিয়ে দুবাই চলে যান সুমন সিকদার।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন