‘অ্যাটলাস ইভি’র চার বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল বাজারে
অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙার পর থেকেই শুরু হয় সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। কর্মব্যস্ত নগরজীবনে প্রতিদিনই নির্দিষ্ট সময়ে ছুটতে হয় অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা নির্ধারিত কাজে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। রাস্তায় বের হলেই বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়, যানবাহনের সারি আর যানজট পেরিয়ে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দেশের সাম্প্রতিক জ্বালানিসংকট। দিনের ব্যস্ততম সময়ে ফুয়েল স্টেশনের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করা, বাড়তি খরচ এবং সময়ের হিসাব—সব মিলিয়ে প্রতিদিনের যাতায়াত হয়ে উঠছে আরও চ্যালেঞ্জিং।
শহরের এমন ব্যস্ততা ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে সময় বাঁচিয়ে সহজে চলাচলের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দুই চাকার ইলেকট্রনিক ভেহিকেল (ইভি)। জ্বালানি খরচের চাপ কমানোর পাশাপাশি যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধা থাকায় এই বিশেষ ধরনের বাইক হয়ে উঠছে দৈনন্দিন যাতায়াতের একটি বাস্তবসম্মত অনুষঙ্গ। আর সহজ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে সিনিয়র সিটিজেন এবং নারীদের জন্যও এটি সুবিধাজনক একটি যাতায়াতের সমাধান।
ব্যস্ত জীবনে বিকল্প যাতায়াতব্যবস্থা
বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (বিএসইসি) অধীন এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান অ্যাটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিএল) দেশে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল সংযোজন ও উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে চীনের ঝেজিয়াং লুইউয়ান ইলেকট্রিক ভেহিকেল কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার (ওইএম) ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার চুক্তি রয়েছে। স্থানীয়ভাবে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল সংযোজন ও উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের বৈদ্যুতিক বাহন খাতের বিকাশ এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়াই এর অন্যতম লক্ষ্য।
উদ্যোগটির অংশ হিসেবে ৫ নভেম্বর ২০২৫ থেকে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাটলাস ইভি বাজারজাত করছে। সম্প্রতি তারা বাজারে এনেছে নতুন মডেলের চারটি অ্যাটলাস ইভি। মডেলগুলো হলো এস৭০, এস৮০, এস৯০-এ এবং এস১০০।
দৈনন্দিন শহুরে চলাচল থেকে শুরু করে তুলনামূলক দীর্ঘ দূরত্বের যাতায়াত—ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী মডেলগুলোয় রাখা হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মোটর, ব্যাটারি, রেঞ্জ ও অন্যান্য ফিচার।
কোন বাইকে কেমন মোটর ও ব্যাটারি
অ্যাটলাস ইভির মডেল এস৭০-এ রয়েছে ৬০ ভোল্ট, ৬০০ ওয়াট লিকুইড কুলিং মোটর ও ৬০ ভোল্ট ২৩ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার গ্রাফিন ব্যাটারি। এস৮০ ও এস৯০-এ মডেলে রয়েছে ৭২ ভোল্ট ১ হাজার ২০০ ওয়াট লিকুইড কুলিং মোটর ও ৭২ ভোল্ট ২৩ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার গ্রাফিন ব্যাটারি। আর এস১০০-এ রয়েছে ৭২ ভোল্ট ও ২ হাজার ওয়াট লিকুইড কুলিং মোটর। এতে ৭২ ভোল্ট ৩৫ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার গ্রাফিন অথবা ৭২ ভোল্ট ৩২ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার লেড অ্যাসিড ব্যাটারির বিকল্প রয়েছে।
এক চার্জে কত দূর, ছুটবে কত গতিতে
এস৭০ মডেলের ইভিটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এবং একবার চার্জে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দিতে পারে। এস৮০ ও এস৯০-এ মডেল দুটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার এবং রেঞ্জ ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। আর এস১০০ মডেলের ইভিটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এবং একবার চার্জে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার রেঞ্জ দিতে পারে।
ব্রেকিং সিস্টেম ও টায়ারে যা থাকছে
ব্রেকিংয়ের ক্ষেত্রে এস৭০ মডেলটিতে রয়েছে ১৮০ মিলিমিটার ডিস্ক ব্রেক ও সিরামিক ড্রাম ব্রেক। এস৮০-তে রয়েছে ডিস্ক ব্রেক, আর এস৯০-এ-তে রয়েছে ডিস্ক বা ডিস্ক ব্রেক। এস৮০-তে ব্যবহার করা হয়েছে ৩.০০-১০ অ্যান্টি-পাংচার টায়ার এবং এস৯০-এ-তে ৯০/৮০-১২ রেডিয়াল অ্যান্টি-পাংচার টায়ার। এস১০০-এ সামনে ও পেছনে ১৮০ মিলিমিটার ডিস্ক ব্রেক এবং ৯০/৯০-১২ রেডিয়াল অ্যান্টি-পাংচার টায়ার রয়েছে। এস৭০-তেও রয়েছে রেডিয়াল অ্যান্টি-পাংচার টায়ার।
ওজন ও ক্লাইম্বিং অ্যাবিলিটি
ব্যাটারিসহ এস৭০ মডেলের ইভিটির ওজন ৯৫ কেজি, এস৮০-এর ১০২ কেজি এবং এস৯০-এ-এর ১২১ কেজি। এস১০০-এর ওজন ব্যাটারির ধরন অনুযায়ী ১২৮ বা ১৩৫ কেজি। ক্লাইম্বিং অ্যাবিলিটির ক্ষেত্রে এস৮০ ও এস৯০-এ ১২ ডিগ্রি পর্যন্ত এবং এস১০০ ১৪ ডিগ্রি পর্যন্ত ঢাল অতিক্রম করতে পারে।
নিরাপত্তা ও ওয়ারেন্টি
চারটি মডেলেই এনএফসি অ্যান্টি-থেফট সিস্টেম রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের বৃষ্টিপ্রবণ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে সব মডেলেই ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সুবিধা রয়েছে। অ্যাটলাস ইভির চারটি মডেলের মোটরের জন্য পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়েছে।
অ্যাটলাস ইভির স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক বলেন, শহরের ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিনের যাতায়াত এখন শুধু দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর বিষয় নয়; পরিবেশ, জ্বালানি ও টেকসই পরিবহনের বিষয়টিও সামনে আসছে। বাংলাদেশ সরকারও আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় রুফটপ সোলার ইনিশিয়েটিভসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশকে আরও পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানিব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক আরও বলেন, ‘সেই বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলও প্রচলিত জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের পাশাপাশি একটি বিকল্প তৈরি করছে। “গো উইথ গ্রিন” স্লোগানে অ্যাটলাস ইভিগুলো দৈনন্দিন যাতায়াতে পরিবেশবান্ধব বাহনের প্রতিশ্রুতি পূরণে ভূমিকা রাখছে বলে আমাদের বিশ্বাস।’