তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক সংকটের কারণে কৃচ্ছ্রসাধন করে সম্মেলন আয়োজনের চেষ্টা করছেন তাঁরা। আনুষ্ঠানিকতার পেছনে ব্যয় কমানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

দীর্ঘ সাত বছর পর লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার পৌর শহরের স্টেডিয়ামে হবে এ সম্মেলন। সম্মেলন উদ্বোধন করার কথা রয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের। এ ছাড়া প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বিশেষ অতিথি হিসেবে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও প্রধান বক্তা হিসেবে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের উপস্থিত থাকার কথা।

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মানুষের হৃদয়ে থাকার চেয়ে ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে গাছে থাকতে পছন্দ করেন। রাজনীতিতে এখন ডিজিটাল ব্যানার-ফেস্টুন নতুন সংস্কৃতি। এটি কোনো দলের জন্য শুভলক্ষণ নয়।
মিজানুর রহমান, লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য

রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, রায়পুর-লক্ষ্মীপুর সড়কের রায়পুর থেকে ঝুমুর পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার ও ঝুমুর থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত আরও ১ কিলোমিটার—এই ১৭ কিলোমিটার সড়কে ১০৯টি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেহমুনী, দক্ষিণ তেহমুনী, বাগবাড়ি, ঝুমুর এলাকায় সড়কের পাশে বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও ব্যানারে সয়লাব। ছবি-সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুনে লেখা, ‘প্রিয় নেতাকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চাই।’ শহরের সব সড়ক ও পাঁচটি উপজেলায় কমবেশি তোরণ, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো আছে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীরা এসব তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি তোরণ দেখা গেছে সভাপতি প্রার্থী গোলাম ফারুক, শফিকুল ইসলাম ও মো. শাহজাহান এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নুরউদ্দিন চৌধুরী ও মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়ার।

আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্তত চারজন নেতা জানিয়েছেন, সম্মেলনে অর্ধলক্ষ নেতা-কর্মী জড়ো করার চিন্তা আছে আওয়ামী লীগের। নেতা-কর্মী জড়ো করতে অনেক টাকা খরচ হবে। তা ছাড়া তোরণ, ব্যানার-ফেস্টুনেও কোটি টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে কৃচ্ছ্রসাধন করে সম্মেলন করলে ভালো হতো বলে মত জ্যেষ্ঠ এই নেতাদের।

জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা রাজনীতিতে অপরিপক্ব ও যোগ্যতায় ঘাটতি আছে, তাঁরাই নিজেকে প্রকাশ করার জন্য এভাবে ব্যানার-ফেস্টুন লাগাচ্ছেন।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মানুষের হৃদয়ে থাকার চেয়ে ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে গাছে থাকতে পছন্দ করেন। নেতাদের মন জয় করতে সবাই ব্যানার-ফেস্টুন লাগাচ্ছেন। রাজনীতিতে এখন ডিজিটাল ব্যানার-ফেস্টুন নতুন সংস্কৃতি। এটি কোনো দলের জন্য শুভলক্ষণ নয়।

এদিকে সম্মেলন উপলক্ষে ডিজিটাল ব্যানারের চাহিদা বেড়েছে। লক্ষ্মীপুর শহরের চমক ডিজিটাল সাইনের পরিচালক খান মোহাম্মদ বাবু জানান, প্রতি বর্গফুট ডিজিটাল ব্যানারের খরচ ২৩ টাকা। সে হিসাবে একটি ব্যানারে খরচ হয় ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রতিটি ফেস্টুনে খরচ হয় কমপক্ষে ৪০০-৫০০ টাকা। আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে তাঁরা প্রায় ২০ হাজার ব্যানার-ফেস্টুন করেছেন। লক্ষ্মীপুর শহরে ব্যানার-ফেস্টুন করার আরও ৩০টি প্রতিষ্ঠান আছে।

বিজলী মাইক ডেকোরেটরের মালিক মো. ফারুক হোসেন জানান, একটি তোরণ নির্মাণে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। সাত-আট দিন ধরে বিভিন্ন ডেকোরেটরের মালিক জেলার বিভিন্ন স্থানে তোরণ নির্মাণ করেছেন।

আর সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক। তিনি বলেন, পুরো জেলায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নেতা-কর্মীরা নিজেরাই টাকা খরচ করে হাজার হাজার তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙাচ্ছেন।