দলিত ও হরিজনদের নিয়ে ‘জাতীয় জনজাতি জোটের’ আত্মপ্রকাশ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আদর্শ ও দিকনির্দেশনায় দলিত, হরিজন ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ‘জাতীয় জনজাতি জোট’ গঠন করা হয়েছে। জোটের আহ্বায়ক করা হয়েছে ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজুকে। সদস্যসচিব হয়েছেন কৈলাস চন্দ্র রবিদাস। এই দুজনই এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক।
আজ শনিবার বিকেলে জোটের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে জোটের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান হয়।
জাতীয় জনজাতি জোটের আহ্বায়ক কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রাজেন্দ্র কুমার দাস, যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক বড়াইল, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব অরুণা রানী দাস, যুগ্ম সদস্যসচিব নিপু দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় দাস, জ্যেষ্ঠ সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাতপুরি জেমস বিশ্বাস, সহসাংগঠনিক সম্পাদক দীপু দাস, সংগঠক চন্দন কুমার বাসফোর, হেনা রানী, বৌর শেট্টি ত্রিনাদা।
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, উচ্চ আদালত জনস্বার্থে বহু অধিকার প্রতিষ্ঠা করলেও দলিত, হরিজন, রবিদাস ও তফসিল সম্প্রদায়ের মানুষ এখনো পূর্ণ মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতি বৈষম্য, শিক্ষা ও চাকরিতে বাধা এবং সামাজিক বর্জন এখনো বাস্তবতা। বর্ণপ্রথার কুপ্রভাব থেকে মুক্তি না পেলে এই জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন সম্ভব নয়।
আখতার হোসেন আরও বলেন, রাজনীতিতে এসব জনগোষ্ঠীকে ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করা হলেও অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি। তাই নির্ভুল জনশুমারি করার পাশাপাশি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে তাদের সমান সুযোগ এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, দলিত ও তফসিল জনগোষ্ঠী মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ না পেয়ে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে; পরে চাকরি ও সামাজিক মর্যাদায় বৈষম্যের শিকার হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কম মজুরি ও অবমূল্যায়ন দূর করে ‘কর্মচারী’ ধারণা বদলে সমতা, মর্যাদা ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানান তিনি।