এ বই তাঁর নিজের দেখা মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর বিবরণ। ইতিহাসের একজন প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর লেখা এ বই নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ভিন্ন এক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইংরেজিতে অনুবাদ করে ‘ডা. আলীম: আ মার্টায়ার অব ১৯৭১’ বইটি প্রকাশ করেছে বাতিঘর। ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দুই বাঙালি মানসী কায়েস ও ফারাহ নাজ।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে ছিল বইটির মোড়ক উন্মোচন। কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে শ্যামলী নাসরিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘একসময় মনে করা হয়েছিল নতুন প্রজন্ম আত্মকেন্দ্রিক। কিন্তু আমাদের ধারণা ও হতাশাকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়ে তারা গণজাগরণ মঞ্চে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল। প্রয়োজনের সময় তারা ঠিকই সক্রিয় হয়ে সামনে দাঁড়ায়। তবে তাদের সামনে মুক্তিযুদ্ধকে যেভাবে তুলে ধরা দরকার ছিল, আমরা সেটা পারিনি। কারণ ভাষা।’

দীপু মনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য, ইতিহাস অনেক লেখা হয়েছে। কিন্তু সেসব ইংরেজিতে অনুবাদ হয়নি। ইংরেজিতে লেখাও হয়নি। অপর দিকে স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশের মধ্যে ক্ষমতায় থেকে ইতিহাস বিকৃত করেছে, কণ্ঠরোধ করেছে। পয়সা খরচ করে, লবিস্ট নিয়োগ করে বিদেশে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খর্ব করেছে। এসব সম্ভব হয়েছে ইংরেজি ভাষায় আমাদের দুর্বলতার কারণে। ‘ডা. আলীম: আ মার্টায়ার অব ১৯৭১’ বইটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধকে পৌঁছে দিতে সেটা করা দরকার। নতুন প্রজন্ম এ ব্যাপারে অনেক বেশি আগ্রহী। তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধকে পৌঁছে দিতে এবং দেশ–বিদেশে একে ছড়িয়ে দিতে হলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ইংরেজিতে অনুবাদ করতে হবে।’ শহীদ আলীম চৌধুরী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আলীম চৌধুরীর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যদি গবেষণা করি এবং বিদেশে সেসবের প্রচার করি, তাহলে তাঁর অবদানকে স্বীকার করা হবে।’ প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করে মৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি জানান তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সহযোগী আল-বদর বাহিনীর সদস্যরা ডা. আলীম চৌধুরীকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে। তাঁর স্ত্রী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বলেন, ‘গত ৫০ বছরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক সাহিত্য ও ইতিহাস লেখা হয়েছে। এগুলো যদি ইংরেজি করা হতো, তাহলে বিশ্বের কাছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পৌঁছে যেত। ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর কথা, তাদের বিচারের কথা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রচার করা দরকার। সেটা সম্ভব, যদি আমাদের ইতিহাস ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়। আশা করি, আমাদের সুশীল সমাজ এ কাজে এগিয়ে আসবে।’

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, সংসদ সদস্য আরমা দত্ত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. মো. শরফুদ্দিন আহমেদ, সম্প্রীতি বাংলাদেশ–এর আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রজন্ম একাত্তরের যুগ্ম সম্পাদক চিকিৎসক ডা. নুজহাত চৌধুরী।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন