‘কেএনএফের’ পোশাক জব্দ আসামির জামিন নিয়ে জালিয়াতি, এক বেঞ্চ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ এলাকার একটি কারখানা থেকে জব্দ করা পোশাকছবি: পুলিশের সৌজন্যে

পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সন্দেহজনক পোশাক (ইউনিফর্ম) জব্দের মামলায় এক আসামির জামিন নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ কর্মকর্তা জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. মাজহারুল হক আজ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, এক আসামির জামিন বিষয়ে জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বেঞ্চ কর্মকর্তা জাকির হোসেনকে ৩০ এপ্রিল সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশে ঘষামাজার অভিযোগ রয়েছে এই বেঞ্চ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

গত বছরের মে মাসে চট্টগ্রাম নগরের একটি কারখানা থেকে ২০ হাজার ৩০০টি সন্দেহজনক পোশাক (ইউনিফর্ম) জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় তখন রিংভো অ্যাপারেলসের মালিক সাহেদুল ইসলামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, গত সেপ্টেম্বরে সাহেদুল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। সেই আদেশে ঘষামাজা করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মামলার নাম্বার ও থানার নাম পরিবর্তন করে কারাগারে পাঠানো হয়। এর ভিত্তিতে কারাগার থেকে বের হন আসামি সাহেদুল ইসলাম।

তবে ওই মামলার অপর আসামি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে সাহেদুল ইসলামের জামিন পাওয়ার বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। এ প্রেক্ষাপটে বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ পায়। নথি–তথ্যাদি পর্যালোচনা করে আসামির (সাহেদুল) জামিনে তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়টি গত ২৯ এপ্রিল প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। প্রধান বিচারপতি তাৎক্ষণিক ঘটনা তদন্তে রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেন। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতেও বলা হয়।

তদন্তের অগ্রগতি আছে জানিয়ে স্পেশাল অফিসার মো. মাজহারুল হক বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন শিগগিরই কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হবে।