কক্সবাজারে গ্যাসপাম্পে বিস্ফোরণ, আগুন ছড়িয়ে দগ্ধ ১০, পুড়েছে ঘরবাড়ি-গাড়ি
কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি গ্যাসপাম্পে বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে আশপাশের ঘরবাড়ি ও একটি গ্যারেজে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়ে গেছে। আগুনে দগ্ধ হয়েছেন অন্তত ১০ জন। বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে পাম্পে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
সম্প্রতি চালু হওয়া ওই পাম্পের নাম এন আলম এলপিজি গ্যাসপাম্প। সেটির অবস্থান কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনের পূর্ব দিকে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত (লিকেজ) হয়ে আগুন ধরে যায়। পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে তা নেভান। পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আবার আগুন ধরে যায়। সেই আগুন চারদিকে ছড়াতে থাকে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের অন্তত নয়টি ইউনিটের যৌথ প্রচেষ্টায় রাত পৌনে দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুনে বেশ কিছু ঘরবাড়ি এবং একটি গ্যারেজে রাখা কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ ১০ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দগ্ধ ৯ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, গ্যাসপাম্পের পাশে থাকা একটি গ্যারেজে অন্তত ৩০টি গাড়ি পুড়ে গেছে। গাড়িগুলো গ্যারেজে মেরামতের জন্য রাখা হয়েছিল। গ্যারেজের কর্মচারী নুরুল আলম বলেন, পাম্প থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে একে একে ৩০টির বেশি প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস পুড়ে গেছে।
এর আগে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান প্রথম আলোকে বলেন, এন আলম এলপিজি গ্যাসপাম্পটি কয়েক দিন আগে চালু করা হয়। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন ধরে গেলে কর্মচারীরা তা নিভিয়ে ফেলেন। এরপর ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাস ছেড়ে দেন। রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওই গ্যাস ট্যাংকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুনরায় আগুন ধরে যায়। নাশকতার উদ্দেশ্যে কেউ পরিকল্পিতভাবে ট্যাংকে আগুন লাগিয়ে দিতে পারে।