আজ সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে (লিখিত) মন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার প্রয়োজনে ভারতীয় উপমহাদেশে রেলওয়ের গোড়াপত্তন করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে যখন তারা বুঝতে পারে, নিজেদের সাম্রাজ্যবাদের পতন হতে চলছে, তখন থেকেই তারা রেল যোগাযোগের ওপর বিনিয়োগ একপ্রকার বন্ধ করে দেয়। পাকিস্তানি শাসনামলেও রেলওয়ের কোনো উন্নয়ন হয়নি।

রেলমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেল পুর্নগঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরের সরকারগুলো রেলপথের উন্নয়নে ভূমিকা নেয়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও একক সিদ্ধান্তে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর রেল–সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০১ থেকে ২০০৫ সালে বিএনপির শাসনামলে রেলওয়ের অগ্রযাত্রা আবারও ব্যাহত হয়।

মন্ত্রী বলেন, ১৯১৪ সাল থেকে শুরু করে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ সময়কালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়কাল ব্যতীত এবং শেখ হাসিনার আমল ছাড়া অন্য সরকারগুলো রেলপথের উন্নয়নে ভূমিকা নেয়নি। বরং এই খাত ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পরে রেলপথের উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ করা হয়। যার ফল রেলওয়ে পেতে শুরু করেছে। পরিপূর্ণ ফলাফল পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমানে যে উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে তা শেষ হলে রেলওয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

উল্লেখ্য, রেলের উন্নয়ন নিয়ে গতমাসে প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে দেখা গেছে স্বাধীনতার পর কখনোই মুনাফা করতে পারেনি রেলওয়ে। বর্তমানে বছরে লোকসান দাঁড়িয়েছে গড়ে দুই হাজার কোটি টাকা।

রেলওয়ের হিসাবে, ২০২০-২১ অর্থবছরে সংস্থাটি লোকসান দিয়েছে ১ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে লোকসান হয়েছে ২ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ সালে লোকসান ছিল ১ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহম্মেদের এক প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর অনুপস্থিতিতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, বাংলাদেশে বার্ষিক বস্ত্রের চাহিদা সাত হাজার মিলিয়ন মিটার। শতভাগ বস্ত্র দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। রপ্তানির পাশাপাশি বিদেশ থেকে বস্ত্র আমদানিও করা হয়। প্রধানত চীন, ভারত ও পাকিস্তান থেকে বস্ত্র আমদানি করা হয়।