ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব ছাত্রদল নেতার, উপাচার্যকে স্মারকলিপি

উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করছেন ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম। ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘জ্বালানি স্বনির্ভর ও সবুজ ক্যাম্পাস’ (এনার্জি-সেলফ-রিলায়েন্ট অ্যান্ড গ্রিন ক্যাম্পাস) হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দেন কবি জসীমউদ্‌দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী।

স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আবাসিক হলসহ উপযুক্ত ভবনগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থার কথা বলা হয় এতে।

প্রস্তাবের প্রথম ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই করে একটি ‘সৌরবিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা’ (সোলার মাস্টার প্ল্যান) প্রণয়ন এবং কয়েকটি ভবনে পরীক্ষামূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এর সফলতার ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে পুরো ক্যাম্পাসে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে এই সৌরবিদ্যুৎ–ব্যবস্থাকে ‘জীবন্ত গবেষণাগার’ (লিভিং ল্যাবরেটরি) হিসেবে ব্যবহার করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি–দক্ষতা ও স্মার্ট গ্রিড নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মৌসুমী শেখ, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সাইফ উল্লাহসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপি দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ তানভীর বারী। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী গ্যাসের সংকট ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সংকট রয়েছে। তাই শুধু গ্যাসনির্ভর না হয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারও এ বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তানভীর বারী আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবন যাচাই করে যদি সৌর প্যানেল স্থাপন করা যায়, তবে এটি দেশের অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি মডেল হিসেবে ভূমিকা রাখবে। এর ফলে বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় একটি বিকল্প উৎস তৈরি হবে।