বাংলাদেশ হাইকমিশনে এসে খালেদা জিয়ার জন্য শোক ও দোয়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে খোলা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আজ সোমবার বিকেলে ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাই কমিশনেছবি: বাংলাদেশ হাই কমিশনের সৌজন্যে

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। আজ সোমবার বিকেলে পাকিস্তান সরকারের পাশাপাশি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এক্স হ্যান্ডলে এ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশ হাইকমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহবাজ শরিফ বিকেলে ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ইসরাত জাহান, প্রেস কাউন্সিলর মো. তৈয়ব আলী ও কাউন্সিলর (কনস্যুলার) সরদার মোহাম্মদ নোমানুজ্জামান।

এ সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তারিক ফাতেমী।

শোকবইয়ে স্বাক্ষর শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় উদ্যোগী হয়ে বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁর পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে তাঁর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও উন্নয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশ হাইকমিশনে যান।

বাংলাদেশের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের কাছে প্রধানমন্ত্রী সমবেদনা জানান এবং শোকবইয়ে সই করেন ও বিদেহী আত্মার জন্য সুরা ফাতিহা পাঠ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর শোকবার্তায় বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁকে একজন দূরদর্শী নেত্রী ও জনসেবায় জীবন উৎসর্গকারী একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন।

পাকিস্তানের একজন আন্তরিক বন্ধু হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে তিনি একটি স্থায়ী ও অনুপ্রেরণামূলক উত্তরাধিকার রেখে গেছেন।

পাকিস্তান সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরিবার, তাঁর অনুসারী ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাঁর আত্মাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন বলে প্রার্থনা করেন।