প্রতিবছর ২০ থেকে ২৬ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে গলা ও বুক জ্বালাপোড়া সচেতনতা সপ্তাহ পালন করা হয়। গোলটেবিল বৈঠকের বৈজ্ঞানিক অংশীদার এসোরাল মাপস এবং সহযোগিতায় ছিল এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। এতে সম্প্রচার সহযোগী ছিল প্রথম আলো। 

এই রোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বৈঠকে চিকিৎসকদের পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিরা নানা পরামর্শ দেন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, তিনি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে গলা ও বুক জ্বালাপোড়া রোগে ভুগছেন। যাঁদের এ রোগ হয়নি, তাঁদের এ রোগ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। 

অনিয়ন্ত্রিতভাবে খাবার খেলে অনেক সময় পাকস্থলী থেকে খাবার খাদ্যনালিতে চলে এলে জারক রসের কারণে গলা-বুক জ্বালাপোড়া করে এবং মুখে টক পানি চলে আসে।
জাতীয় অধ্যাপক মাহমুদ হাসান, সাবেক উপাচার্য, বিএসএমএমইউ

জাতীয় অধ্যাপক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মাহমুদ হাসান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, খাবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় খাদ্যনালি থেকে পাকস্থলীতে নামে। পাকস্থলীতে হজম প্রক্রিয়া হয়। পাকস্থলী থেকে যেন জারক রসসহ অন্যান্য উপাদান খাদ্যনালিতে না যেতে পারে, সে জন্য পাকস্থলীতে একমুখী একটা দরজা (ভাল্‌ভ) রয়েছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে খাবার খেলে অনেক সময় পাকস্থলী থেকে খাবার খাদ্যনালিতে চলে এলে জারক রসের কারণে গলা-বুক জ্বালাপোড়া করে এবং মুখে টক পানি চলে আসে।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, অতিরিক্ত খাবার খেয়ে পাকস্থলীর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে হজমপ্রক্রিয়ায় গোলমাল হয়। পাকস্থলী থেকে অ্যাসিড তৈরি রোধ করতে এখন অনেক ওষুধ তৈরি হয়েছে। ওষুধগুলো যেন সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে, সেভাবে ব্যবহার করতে হবে।

রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার কিছু উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডাল রান্নায় তেলে ভেজে যে রসুন ব্যবহার করা হয়, তাতে অনেকের গলা ও বুক জ্বালাপোড়া করে। তেল ও শুকনা মরিচ দিয়ে মাখানো কাঁচা আম খেয়ে পানি খেলে অনেকের একই সমস্যা হয়। তাই কার কোন কারণে উপসর্গ দেখা দেয় তা খুঁজে বের করলে প্রতিরোধ করা সহজ হয়। খাটের নিচে মাথার দিকে ইট দিয়ে এবং পেটের দিকে তোশকের নিচে ফোম দিয়ে উঁচু করে ঘুমালেও এই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। ‘গ্যাস্ট্রিক’ বলে আসলে কিছু নেই।

প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে রোগটিকে শনাক্ত করা প্রয়োজন, যাতে গলা ও বুক জ্বালাপোড়ায় কষ্ট পেতে না হয়। পেট ভরে খাওয়া যাবে না, খাওয়ার পরপর পানি খাওয়া যাবে না এবং খেয়ে উপুড় হওয়ার মতো কাজ করা যাবে না।

অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, গলা ও বুক জ্বালাপোড়ার জন্য অনেকে অন্যের কাছে শুনে ওষুধ সেবন করতে থাকেন। এভাবে নিজে নিজে ওষুধ সেবন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে মানুষ সহজে গ্রহণ করতে পারবে, এমন পরামর্শ দিতে হবে। 

দেশে এখন গলা-বুক জ্বালাপোড়া কমাতে আধুনিক ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে জানিয়ে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের নির্বাহী পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, নতুন আবিষ্কৃত মাল্টি ইউনিট পেলেট সিস্টেম (মাপস) এসেছে, যা গলা ও বুক জ্বালাপোড়া রোধে দীর্ঘসময় ধরে কাজ করে।

শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, উপযুক্ত ব্যবস্থা নিলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াও গলা ও বুক জ্বালাপোড়া থেকে ভালো থাকা যায়। 

শেখ রাসেল হাসপাতালে আধুনিক সব পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে বলে জানান গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক তৌহিদুল করিম মজুমদার। 

একই হাসপাতালের অধ্যাপক সাঈদা রহিম বলেন, রোগ প্রতিরোধে সঠিক সময়ে, সঠিক পরিমাণে, সঠিক মাত্রায় প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (পিপিআই) ওষুধ সেবন করতে হবে। খাদ্যনালির অন্য অসুস্থতার কারণেও গলা ও বুক জ্বালাপোড়ার উপসর্গ দেখা দিতে পারে।